ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়ে গেছে। শিশু বিভাগে শয্যার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায়, অনেকের জায়গা হচ্ছে মেঝেতে। শ্বাসকষ্ট জটিল আকার ধারণ করায় দিতে হচ্ছে অক্সিজেন ও নাকের ড্রপ। চিকিৎসকদের দাবি, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়ে গেছে। এক মাস ধরে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম অবস্থা তাদের।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শিশু বিভাগে সন্তান নিয়ে অপেক্ষা করছেন মায়েরা। শ্বাসকষ্ট জটিল আকার ধারণ করায় শিশুদের দেওয়া হচ্ছে অক্সিজেন। শিশু বিভাগে ৪৬ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ২০০ শিশু রোগী ভর্তি থাকছে। ফলে অতিরিক্ত রোগীর স্থান হচ্ছে মেঝেতে। গতকাল রোববার শিশু বিভাগে ২২৮ রোগী ভর্তি দেখা গেছে, এর মধ্যে ১৬৭ শিশু নিউমোনিয়া আক্রান্ত।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকাল ৯টা থেকে গতকাল রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত শিশু বিভাগে নতুন করে ৪২ শিশু ভর্তি হয়েছে, এর মধ্যে ৩৩ শিশু নিউমোনিয়া আক্রান্ত। শিশু বিভাগ থেকে গত ১৫ দিনে ৫৯৮ শিশু সেবা নিয়েছে, এর ৬০ শতাংশই নিউমোনিয়া আক্রান্ত ছিল। তবে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে আবার কয়েকদিন পর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে এবং সঙ্গে নতুন রোগী আসছে।
শিশু বিভাগের চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শিশুরা বেশি নিউমোনিয়া আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বাড়তি রোগী, জনবল সংকটসহ নানা কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া কঠিন হচ্ছে। রোগীর সঙ্গে থাকা একাধিক স্বজনের কারণে ক্রস ইনফেকশন বা একজনের জীবাণু এক বা একাধিক শিশুর শরীরে সংক্রমণের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
শৈলকুপা উপজেলার পাচপাকিয়া গ্রাম থেকে আড়াই মাস বয়সী শিশু আরশ ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। সঙ্গে থাকা তার মা রাবেয়া খাতুন বলেন, গত ৯ আগস্ট থেকে বাচ্চার ঠান্ডা বেশি, সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এরপর সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করেছেন। তখন থেকেই অক্সিজেন চলছে।
ভর্তি শিশু সাদিকের বাবা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, তাঁর সন্তানের বয়স সাত মাস, ডাবল নিউমোনিয়া হয়েছে। প্রথমে শৈলকুপা এবং পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। চিকিৎসক বলেছেস আরও কয়েক দিন থাকতে হবে।
হরিনাকুণ্ডু থেকে শিশুকে নিয়ে ভর্তি নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রথমে জ্বর আসে। এরপর ঠান্ডা লাগে। হরিনাকুণ্ডু হাসপাতাল থেকে জ্বরের ওষুধ ও নাকের ড্রপ দিয়েছিল। এরপরও না কমলে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। গত শুক্রবার থেকে সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন তারা। এখন শিশুটি কিছুটা সুস্থ।
শিশু বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স রাজিয়া সুলতানা জানান, খুবই কষ্ট হয় বাড়তি রোগীর সেবা দিতে। বেশি সমস্যা হয় এক রোগীর সঙ্গে থাকা একাধিক স্বজনের কারণে। তবুও কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের সিনিয়র শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ারুল ইসলামের ভাষ্য, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুরা বেশি নিউমোনিয়া আক্রান্ত হচ্ছে। জনবল সংকট, বাড়তি রোগীর চাপ থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তবুও সাধ্যমত শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছেন তারা। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই বেশি অসুস্থ শিশু আসছে, যাদের দ্রুত অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে। ৭ থেকে ১৪ দিন, কোনো কোনো শিশুর সুস্থ হতে ২১ দিনও সময় লাগছে। নিউমোনিয়া থেকে শিশুদের রক্ষা করতে অভিভাবকদের সচেতনতাই বেশি জরুরি।