বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। এই স্বল্প সময়ে মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সদস্য তাদের বিতর্কিত বক্তব্য, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং কর্মকাণ্ডের কারণে বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। কখনো মন্ত্রীদের অসংলগ্ন মন্তব্য, আবার কখনো ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এই সময়ের মধ্যে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৫০ থেকে কমে ৪৮-এ দাঁড়িয়েছে, যেখানে মন্ত্রীদের দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতা’ বলে আখ্যা দেওয়া, বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের ‘গ্রামে লোডশেডিং নেই’ দাবি এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এছাড়াও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিতর্কিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও টিকা কার্যক্রম নিয়ে অস্পষ্ট অবস্থান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া দাবির সঙ্গে বাস্তবতার অমিল সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে।
মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের মধ্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের ব্যক্তিগত ভিডিও বিতর্ক, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পারিবারিক প্রভাব বিস্তার ও দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের মন্ত্রী-এমপিদের বেতন ১০ লাখ টাকা করার দাবি নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে মন্ত্রীদের এমন কর্মকাণ্ড ও দায়িত্বহীন বক্তব্য সরকারের ভাবমূর্তির ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক পর্যালোচনা।