গ্যাসের তীব্র সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের শিল্প, পরিবহন এবং স্বাভাবিক জনজীবন। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির তথ্যমতে, চট্টগ্রামে দৈনিক ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে এখন সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই বড় ধরনের ঘাটতির কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ক্ষমতা ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে, আবার কোনো কোনো কারখানা পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা, যা সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহকে ব্যাহত করছে।
পরিবহন খাতেও নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যার ফলে কমে গেছে গণপরিবহনের সংখ্যা। এই সুযোগে কিছু অসাধু চালক যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, গৃহস্থালির রান্নার কাজেও দেখা দিয়েছে সংকট; নিরুপায় হয়ে অনেকেই এলপিজি সিলিন্ডারের দিকে ঝুঁকছেন, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের খরচের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
শিল্পোদ্যোক্তা ও শ্রমিকরা বলছেন, দীর্ঘসময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি বাড়ছে। যদিও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে কবে নাগাদ এই পরিস্থিতির সমাধান হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে চট্টগ্রামের শিল্প ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।