শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
Title :

সীতাকুণ্ডে চরম গ্যাস সংকট: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারিতে ভোগান্তি

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ Time View
16

জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি

জাতীয় গ্রিড ও উৎসস্থল থেকে সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় তীব্র আকার ধারণ করেছে গ্যাস সংকট। পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে। বেশিরভাগ পাম্পেই ঝুলছে ‘গ্যাস নেই’ সাইনবোর্ড, যার ফলে জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও বিভিন্ন পণ্যবাহী পরিবহনের চালকরা। পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন পাম্প এলাকা ঘুরে দেখা যায় দীর্ঘ যানজট ও চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষার দৃশ্য। ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে প্রধান সড়কে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে রয়েছে শত শত সিএনজি অটোরিকশা, কভার্ডভ্যানসহ নানা ধরনের যানবাহন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা পুরো দিন পার হয়ে গেলেও সিএনজিচালিত গাড়িগুলো পাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস।

দুর্ভোগের কথা জানিয়ে রুবেল নামের এক কভার্ডভ্যান চালক বলেন, “বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিক থেকে গাড়ির লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। শুক্রবার বিকেল গড়িয়ে গেলেও এক ফোঁটা গ্যাস মেলেনি। এতে আমাদের যেমন ট্রিপ বন্ধ রয়েছে, তেমনি দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল আমাদের পরিবারগুলোও আর্থিক সংকটে পড়ছে।”

একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেকের। লাভলু নামের এক সিএনজি চালক জানান, সময়মতো গ্যাস না পাওয়ায় বাড়বকুণ্ড ও কুমিরাসহ অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।

এদিকে, এই সংকটের পেছনে কোনো কৃত্রিম কারসাজি রয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেক চালক। তাদের মতে, অতীতেও জ্বালানি ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছিল। এবারও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের অভাবে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ফিলিং স্টেশনগুলোর মালিকপক্ষও। পাম্প ব্যবসায়ীদের দাবি, অতি দ্রুত এলএনজি (LNG) সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই লোকসান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। এ বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিশ্লেষকদের অভিমত, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা না হলে সীতাকুণ্ডের গণপরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com