ভাষাবিজ্ঞানী ও স্বনামধন্য লেখক অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট জার্মানির মিউনিখ শহরে মারা যান তিনি। বাংলাদেশের অন্যতম প্রথাবিরোধী এবং বহুমাত্রিক লেখকদের অন্যতম ছিলেন হুমায়ুন আজাদ।
‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাসে মৌলবাদীদের সমালোচনা করায় তিনি একটি গোষ্ঠীর তীব্র আক্রোশের মুখে পড়েন। এ কারণে ২০০৪ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে এক দল সন্ত্রাসীর চাপাতির আঘাতে গুরুতর জখম হন বহুমাত্রিক লেখক ড. হুমায়ুন আজাদ। হামলার পর তিনি ২২ দিন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এবং ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কয়েক মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর ২০০৪ সালের ৭ আগস্ট গবেষণার জন্য জার্মানিতে যান এই লেখক। ওই বছরের ১২ আগস্ট মিউনিখে নিজের ফ্ল্যাট থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলার পরের দিন তাঁর ছোট ভাই মঞ্জুর কবির রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। তাঁর মৃত্যুর পরে আদালতের আদেশে অধিকতর তদন্তের পর সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। সিআইডির তদন্তের পর ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। একই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। নিষিদ্ধঘোষিত জেএমবির সদস্যরা হুমায়ুন আজাদের ওপর ওই হামলা চালিয়েছিল বলে পরবর্তী সময়ে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে।
দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্কের পর ২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল-মামুন লেখক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যার দায়ে চার আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো– জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শূরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার আলম ওরফে ভাগনে শহীদ, সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু। আসামিদের মধ্যে মিনহাজ ও আনোয়ার কারাগারে, সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ পলাতক। পরে মামলার আপিল শুনানির জন্য রায়ের যাবতীয় নথিপত্র হাইকোর্টে আসে। এরপর আর মামলার কোনো অগ্রগতি জানা যায়নি।
মামলার বিচারের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে হুমায়ুন আজাদের মেয়ে লেখক-সাহিত্যিক মৌলি আজাদ গতকাল মঙ্গলবার সমকালকে বলেন, আমরা মামলার আর কোনো খোঁজ-খবর জানি না। উচ্চ আদালতে মামলাটি আদৌ শুনানি হবে কিনা বা রায় বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে আমরা সন্দিহান।
হুমায়ুন আজাদ তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ২০১২ সালে সামগ্রিক সাহিত্যকর্ম ও ভাষাবিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের জন্য মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের কামারগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ুন আজাদ।