দেশের পর্যটন খাতকে টেকসই, আধুনিক ও বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
রোববার (২ আগস্ট) গুলশান ক্লাবে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টিওএবি) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, পর্যটন শিল্পকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
মন্ত্রী নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নতুন নেতৃত্ব দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, সরকারের উদ্যোগে দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। এই মহাপরিকল্পনা দেশের পর্যটন উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে।
আফরোজা খানম বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটন হাবে পরিণত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি নবনির্মিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ এবং পর্যটন খাতের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল ও মোটেলগুলোতে তাদের জন্য বিশেষ মূল্যছাড় চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, পর্যটন খাত থেকে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৬ থেকে ৭ শতাংশ অবদান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পর্যটন খাতে তথ্যের ঘাটতি দূর করতে দেশব্যাপী ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (টিএসএ) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে টিওএবিসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব ও নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউছার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান, বাংলাদেশে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কাইংলেট, শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপালা ওয়েরাক্কোডি, ব্রুনাই দারুসসালামের হাইকমিশনার হাজী হারিস বিন হাজী ওসমান, নেপাল ও পাকিস্তান দূতাবাসের প্রতিনিধিসহ টিওএবি নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং পর্যটন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।