রবিবার (২ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে একটি মৌন মিছিল বের করা হয়।
রবিবার (২ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে একটি মৌন মিছিল বের করা হয়।
সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি প্রমা রাহা বলেন, ১৯৯৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তৎকালীন আন্দোলনে ধর্ষণের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আজও ক্যাম্পাসে নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে। প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের এই মৌন মিছিল নীরবতা নয়, বরং ভেতরের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রতীক।
জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সেমন্তী রোদসী বলেন, ২৭ বছর আগে এই দিনে ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচার নিশ্চিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়েও ক্যাম্পাসে নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আন্দোলন-সংগ্রাম হওয়ার পরও এখনো বিচার নিশ্চিত হয়নি। এর জন্য প্রশাসনের গাফিলতি যেমন দায়ী, তেমনি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি ঐক্যের অভাবও একটি কারণ।
তিনি আরো বলেন, ‘গান, কবিতা কিংবা সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সবাইকে একত্রিত থেকে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব।’
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, ১৯৯৯ সালের আন্দোলন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
তিনি বলেন, ‘আজ ২৭ বছর পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণ, নিপীড়ন ও বিচারহীনতার অভিযোগ রয়েছে। এই বাস্তবতায় জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে আমরা মৌন মিছিল ও প্রদীপ প্রজ্বালনের আয়োজন করেছি। সংস্কৃতির ভাষায় আমরা সব ধরনের অন্যায়, অবিচার, ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকব।’