১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার তারিখ হিসেবে ১৫ আগস্ট নির্ধারণ করা হলে দেশটির জ্যোতিষীরা এতে তীব্র আপত্তি জানান। তাদের মতে, ওই দিনটি নতুন একটি রাষ্ট্রের জন্মের জন্য মোটেও শুভ ছিল না। লর্ড মাউন্টব্যাটেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের দ্বিতীয় বার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতেই মূলত এই তারিখটি বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু জ্যোতিষীদের দাবি ছিল, ১৫ আগস্ট শুক্রবার হওয়ায় তা ভারতের ভবিষ্যতের জন্য অশুভ হতে পারে এবং এর ফলে দেশটিতে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
জ্যোতিষীদের আশঙ্কা দূর করতে শেষ পর্যন্ত একটি বিশেষ সমঝোতার পথ বেছে নেওয়া হয়। যেহেতু তারিখ পরিবর্তন করা তৎকালীন পরিস্থিতিতে অসম্ভব ছিল, তাই স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক মুহূর্ত হিসেবে ১৪ আগস্ট মধ্যরাতকে নির্ধারণ করা হয়। সেই ঐতিহাসিক মধ্যরাতেই ভারত স্বাধীন হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যা জওহরলাল নেহরুর সেই বিখ্যাত ভাষণের মাধ্যমে ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। মূলত রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা এবং ধর্মীয় বিশ্বাস ও জ্যোতিষবিদ্যার মধ্যে এক অদ্ভুত সমন্বয়ের মাধ্যমেই ভারতের স্বাধীনতার মুহূর্তটি চূড়ান্ত হয়েছিল।