কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় প্রায় কুড়িটি জাহাজে হামলা চালানোর চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের এই ব্যস্ত জলপথে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে ওই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন ভূরাজনীতিবিদরা।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের লক্ষ্যবস্তু হওয়া ওই জলযানগুলোর মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি রণতরী এবং একাধিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারও অন্তর্ভুক্ত ছিল। হরমুজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল এলাকায় এ ধরনের হামলা বা সংঘাতের ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান জ্বালানি সরবরাহ লাইনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। বিশ্বের তেল সরবরাহের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এই ঘটনা বিশ্ববাজারে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
প্রণালিটি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজগুলোর ওপর এ ধরনের হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো তৎপর রয়েছে এবং সাম্প্রতিক এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন উপস্থিতি এবং ইরানের সামরিক শক্তির মুখোমুখি অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই তেল পরিবহন রুটে নিয়মিতই বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীর নজরদারি এবং শক্তি প্রদর্শন চলে আসছে। আইআরজিসির এই নতুন দাবির সত্যতা ও এর পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালির এই সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হয় এবং এর দীর্ঘমেয়াদী ভূরাজনৈতিক প্রভাব কী দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।