বরগুণায় পরকীয়ার অঅভিযোগে স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যা করার মামলায় তদন্ত সংক্রান্ত অভিযান শুরু হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার বরগুনা–পুরাকাটা আঞ্চলিক সড়কের কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাতলা এলাকায় নিহত আফাং শিকদার (৪৫)র মরদেহ বাড়িতে আনার পর তার স্বজন ও স্থানীয়রা প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে ওই স্ত্রীর সঙ্গে তার মাকে আটক করে।
নিহত আফাং শিকদার কেওড়াবুনিয়ার চালিতাতলা গ্রামের প্রয়াত খবির শিকদারের ছেলে। স্বজনেরা বলছেন, জীবিকার তাগিদে আফাং দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন; দেশে ফিরে স্ত্রীর রাবেয়ার পরকীয়া ও অন্য একজনের সঙ্গে অনৈতিগত সম্পর্কের অভিযোগ প্রকাশ পেলে দম্পতির মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
পরিবারের দাবিভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৯ জুলাই) রাবেয়া তার স্বামীর কাছে হত্যা উদ্দেশ্যেই ইঁদুর মারার বিষ খাইয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনাজনের পর দিন রোববার (২০ জুলাই) আফাংকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল; সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি মারা যান। হাসপাতালের ময়নাতদন্তের পর শনিবার মরদেহ বাড়িতে আনা হলে আশপাশের মানুষরা রাবেয়া ও তার মাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। বরগুনা সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার পর অভিযোগের ভিত্তিতে দুই নারীকে আটক করেছে; মামলার প্রস্তুতি ও তদন্ত চলছে এবং অভিযোগ সঠিক পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।