বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ন
Title :
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মঈনুল হাসানকে সরানো হলো দক্ষিণ আফ্রিকায় খনির বর্জ্যের স্তূপ ধসে ১৪ শ্রমিকের মৃত্যু কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে অন্তত ১৮০ জন নিহত, জীবিতদের উদ্ধারে চলছে মরিয়া চেষ্টা গোপালগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল দুই যুবকের হাসানাত আবদুল্লাহসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুই ওসির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হরমুজ প্রণালিতে কার ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’? ট্রাম্প-মোহেব্বির বিপরীত দাবি ঢাকাসহ যেসব বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস বাংলাদেশ সফরের সময়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলতে আগ্রহী ভারত বিরল সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব, দেখা যাবে যেসব দেশে সারাদেশে লোডশেডিং, পোলট্রি, মৎস্য ও কৃষি খাত ধুঁকছে

সারাদেশে লোডশেডিং, পোলট্রি, মৎস্য ও কৃষি খাত ধুঁকছে

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ Time View
13

গ্যাস সংকটের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলছে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং। শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষকে এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বেশি। জেলা শহরে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও কোনো কোনো গ্রামাঞ্চলে দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যুতের এই অনিয়মিত সরবরাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি, পোলট্রি ও মৎস্য খাত। ব্যাহত হচ্ছে সেচ, বরফ উৎপাদন ও চিংড়ি ঘেরের এয়ারেটর চালানো। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় মারা যাচ্ছে মুরগি। বিদ্যুৎনির্ভর হিমাগারে আলু, বীজ ও পেঁয়াজ সংরক্ষণেও দেখা দিয়েছে নতুন ঝুঁকি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন কমার পাশাপাশি বাড়ছে পরিচালন ব্যয়। ছোট খামারি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের অনেকেই সরাসরি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

ইলিশ মৌসুমে বরফের সংকট
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কক্সবাজার, চাঁদপুর, নোয়াখালী, বরিশাল ও পটুয়াখালীর মৎস্য খাত। এখন ইলিশ ধরার মৌসুম। সাগর থেকে ধরা মাছ সংরক্ষণে এ সময়ে বিপুল পরিমাণ বরফ প্রয়োজন হয়। একটি ব্লক বরফ তৈরি করতে টানা ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বরফ কলগুলো স্বাভাবিক উৎপাদনে যেতে পারছে না। ফলে বরফ তৈরি করতে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। কোথাও কোথাও অর্ডারও বাতিল করতে হচ্ছে।

বরিশালের কেডিসি এলাকার একটি বরফকলের শ্রমিক মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রতিদিন তিন থেকে চারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে বরফকলগুলোতে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, ১৫০ টাকার একটি বরফের ক্যান এখন ৩০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বাড়তি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় বরফ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে জেলেরা মাছ ধরতে যেতে পারছেন না, আবার ট্রলার ও বরফকলের মালিকদেরও বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।

পটুয়াখালীর মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য বন্দরে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৩৬টি বরফকল রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটে এসব বরফকলের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমেছে। কোনো কোনো বরফকল দিনে মাত্র ২০ থেকে ২৫ ক্যান বরফ উৎপাদন করতে পারছে। কোনোটি সর্বোচ্চ ২০০ ক্যান পর্যন্ত উৎপাদন করছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় বর্তমানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ উৎপাদন হচ্ছে।

পটুয়াখালীর মৎস্য ব্যবসায়ী রহিম খান বলেন, বিদ্যুৎ সংকটে বরফের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। চাহিদামতো বরফ পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে খুলনা, বাগেরহাট ও বরিশাল থেকে ট্রাকে করে বরফ আনতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে।
নোয়াখালীর হাতিয়ার মৎস্য ব্যবসায়ী সেলিম হাওলাদার বলেন, ইলিশ মৌসুমে প্রতিদিন শত শত ট্রলার সাগরে যায়। মাছ সংরক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণ বরফ প্রয়োজন। বরফের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব পড়বে মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণে।

চিংড়ি ঘেরে অক্সিজেনের সংকট
দেশে মোট ১০৫টি হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা রয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত হয় খুলনার বিভিন্ন কারখানায়। খুলনার উপকূলীয় এলাকায়ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে চিংড়ি চাষে। পাইকগাছা ও কয়রার চাষিরা বলছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরের এয়ারেটর চালানো যাচ্ছে না। এতে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে চিংড়ি মারা যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার হোগলবুনিয়া গ্রামের গৌতম মণ্ডল বাড়ির পাশে দেড় বিঘা জমিতে সেমি-ইনটেনসিভ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করছেন। তাঁর ঘেরে প্রায় ৪০ হাজার রেণু পোনা রয়েছে। তিনি বলেন, তীব্র গরমে প্রতি ঘণ্টায় এয়ারেটর চালাতে হয়। তা না হলে মাছ মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে সন্ধ্যার পর প্রায় নিয়ম করে এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ যাচ্ছে। এক দিন ছয় ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ ছিল না। এখন ঋণ করে হলেও জেনারেটর কেনার কথা ভাবতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) পরিচালক এস. হুমায়ুন কবীর বলেন, চিংড়ি পচনশীল পণ্য। সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি ধাপেই বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।

তিনি বলেন, ঘেরের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখতে সারাক্ষণ বিদ্যুৎচালিত এয়ারেটর ব্যবহার করতে হয়। লোডশেডিং হলে উৎপাদন কমে যায়, কখনও কখনও সব মাছও মারা যেতে পারে। এখন চিংড়ি চাষের ভরা মৌসুম হওয়ায় বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।

তাপে মরছে মুরগি
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে পোলট্রি খাত। তীব্র গরমে মুরগির ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল ও শীতলীকরণ ব্যবস্থা চালু রাখা যাচ্ছে না। ফলে বাড়ছে মুরগির মৃত্যু ও কমছে ডিম উৎপাদন।
জয়পুরহাটে ৬৫০টির বেশি লেয়ার খামারে বছরে প্রায় ৩১ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়। খামারিরা বলছেন, দিনে দু-তিনবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তাপজনিত চাপ বাড়ছে। খামারি আহমেদ রানা বলেন, যেসব এলাকায় বেশি পোলট্রি খামার রয়েছে, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ দেওয়া উচিত। কারণ, অল্প সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটেও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

যশোরের অভয়নগরেও বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে একটি পোলট্রি খামারের চার শতাধিক মুরগি মারা গেছে। ৮ আগস্ট সকালে উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার বুইকরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খামারের দুই তরুণ উদ্যোক্তা মো. হাসান ও মো. হোসেন যমজ ভাই। বেকারত্ব ঘোচাতে ২০২৩ সালে একটি এনজিও থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তারা খামারটি শুরু করেছিলেন। পরিবারের সবাই এই খামারে শ্রম দেন।

হাসান বলেন, গত শুক্রবার পর্যন্ত খামারে নানা বয়সী প্রায় আড়াই হাজার মুরগি ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টি বিক্রির উপযোগী হয়েছিল। রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। এ সময় বিক্রির উপযোগী চার শতাধিক মুরগি মারা যায়।

তিনি বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমরা ধারদেনা করে দুই ভাই খামারটি করেছি। ভেবেছিলাম মুরগি বিক্রি করে সব দেনা পরিশোধ করব। কিন্তু বিদ্যুতের কারণে সব শেষ হয়ে গেল। হাসান জানান, মুরগির খাবার ও ওষুধের দোকানে বাকিসহ তাদের প্রায় সোয়া লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতি হয়েছে তিন লাখ টাকার বেশি।
খামারিদের ওপর লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলের বাড়তি চাপও তৈরি হয়েছে। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের খামারি আবদুল মালেকের তিনটি খামারে জুন ও জুলাই– এ দুই মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বিদ্যুতের দাম বাড়ার আগে তাঁর মাসিক বিল ছিল গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। অর্থাৎ, একদিকে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ঘাটতি পূরণে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে খামারিদের উৎপাদন ব্যয়ে দ্বিমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়েও প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। উপজেলায় ৩১টি লেয়ার ও এক হাজারের বেশি ব্রয়লার খামার রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন ধরে রাখতে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে খামারিদের। বাড়তি এই ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরও পড়ছে।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) দাবি, ফিড, বাচ্চা, ওষুধ, ভ্যাকসিন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহনসহ প্রায় প্রতিটি উৎপাদন উপকরণের দাম বেড়েছে। এতে খামারিদের উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও মুরগি ও ডিমের খামার পর্যায়ের বাজার দামের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নেই। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের আগে দেশে প্রায় দুই লাখ পোলট্রি খামারি ছিলেন। ধারাবাহিক লোকসান, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজারমূল্যের অস্থিতিশীলতা, সহজ শর্তে অর্থায়নের অভাবসহ নানা সমস্যায় বর্তমানে খামারির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ ৩৬ হাজারে। অর্থাৎ, পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রায় ৬৪ হাজার খামারি এ খাত থেকে ঝরে পড়েছেন।

বিপিআইএর যুগ্ম মহাসচিব আলমগীর হোসেন বলেন, ডিম উৎপাদনকারী খামারিরা টানা দুই বছর ধরে লোকসানে আছেন। লোডশেডিং তাদের ব্যয়ের তালিকা আরও বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, আগে কোনো খামারির মাসে জেনারেটরের পেছনে দুই হাজার টাকা খরচ হলে, এখন তা ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। গ্রামে একেবারেই বিদ্যুৎ থাকে না। এর ফলে খামারিরা শুধু আর্থিক নয়, সামাজিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

হিমাগারে আলু, বীজ, পেঁয়াজ নষ্ট 
অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে কৃষিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে সেচ নিয়ে। বৈদ্যুতিক মোটরের মাধ্যমে সেচ দেওয়া কৃষকদের বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতে হচ্ছে। ফলে সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রাজশাহীর বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কৃষক মহাসিন আলী বলেন, বিদ্যুৎ কখন আসবে তার কোনো ঠিক নেই। মোটর চালানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সময়মতো পানি দিতে না পারলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পথে বসতে হবে।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে হিমাগারগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। আবার জ্বালানি তেলের দামও বেশি। কুমিল্লা সদর উপজেলার আমতলী এলাকার হক অ্যান্ড সন্স কোল্ডস্টোরেজের কম্প্রেশার মেশিনের অপারেটর মো. বাবুল সরকার বলেন, জেলায় ২০টির বেশি হিমাগার রয়েছে। এসবের অধিকাংশই আলু ও বীজে পূর্ণ। গত এক সপ্তাহ ধরে দিনে গড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আলু ও বীজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আলু নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখতে হয়। বীজ আলুর ক্ষেত্রে তাপমাত্রা নিয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হয়। তাপমাত্রার সামান্য হেরফের হলেই বীজ নষ্ট হতে পারে।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আর বি কোল্ডস্টোরেজের ব্যবস্থাপক সেলিম হোসেন বলেন, দিনে গড়ে ছয় ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ১৫ লাখ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে হিমাগারগুলো ইতিহাসের সর্বোচ্চ ক্ষতির মুখে পড়বে।

দেশের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা পাবনায়ও বিদ্যুৎ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার সংকটের মধ্যে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। এবার জেলায় পেঁয়াজের ফলন ভালো হলেও ভরা বর্ষার শুরুতেই সংরক্ষিত পেঁয়াজে ব্যাপক পচন দেখা দিয়েছে।

সনাতন পদ্ধতির চাতাল থেকে শুরু করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তৈরি আধুনিক সংরক্ষণাগারসহ কোথাও পচন পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। এরই মধ্যে সংরক্ষিত দেশি ও হাইব্রিড পেঁয়াজের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পচন ধরেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সুজানগরের মানিকহাট এলাকার পেঁয়াজ চাষি মাসুদ রানা ভালো দামের আশায় ৪০০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেছিলেন। এর মধ্যে ১০০ মণের বেশি পেঁয়াজে পচন ধরেছে। বাধ্য হয়ে নামমাত্র দামে বিক্রি করতে গিয়ে প্রতি মণে প্রায় এক হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে তাঁর।
চলমান সংকট প্রসঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেছেন, আমরা সাময়িক নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছি। কৃষি খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে কাজ করছি। কৃষকদের সেচ খরচ কমাতে ধাপে ধাপে সোলার সিস্টেমে রূপান্তর করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা সৌরচালিত মিনি কোল্ডস্টোরেজ বিতরণ শুরু করে দিয়েছি। পেঁয়াজ সংরক্ষণের এয়ার ফ্লোতে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার খবর শুনে আমরা ওই মেশিনকে সোলারে রূপান্তরের কাজ করছি। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিনির্ভরতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন আরও লাভজনক হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com