শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন
Title :
যুদ্ধের অবসান ঘটানোর সময় এসেছে: ইরানের প্রেসিডেন্ট দীপু মনির স্বামীর জানাজায় অস্থিরতার চেষ্টার অভিযোগ, যুবক কারাগারে প্রধানমন্ত্রীর ‘সম্ভাব্য’ সফর নিয়ে ভারতের বিবৃতি প্রত্যাহার তিন সচিবের দপ্তর রদবদল মাদক ও অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন শিক্ষক আরিফুল যে দায়িত্বই দেওয়া হোক নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব: মিল্লাত মন্ত্রিসভায় রদবদল: নতুন সদস্যরা কে কোন মন্ত্রণালয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হোক বন্ধুত্বের: জামায়াতের আমির জনপ্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করুন: মুফ‌তি রেজাউল জনপ্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করুন: সরকারকে চরমোনাই পীর

মাদক ও অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন শিক্ষক আরিফুল

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ Time View
23

সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি

মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় হামলার শিকার লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। টানা ২১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত শুক্রবার রাতে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

নিহত আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সামাজিক অপরাধবিরোধী আন্দোলন ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

এলাকাবাসী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিজ এলাকায় মাদক ও অনলাইন জুয়া বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল আরিফুল। অপরাধীরা তার কথায় কর্ণপাত না করায় তিনি বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর হুঁশিয়ারি দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তার মাথা গুরুতর জখম হয়।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউ এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।

এই মর্মান্তিক ঘটনার মাঝে পরিবারটিতে নেমে এসেছে গভীর শোক। আরিফুল যখন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, তখন গত ৬ আগস্ট তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সিজারের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সদ্যোজাত সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারেননি এই প্রতিবাদী শিক্ষক।

হামলার পরদিন ২ আগস্ট আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে রহিদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা জামিন পেলেও প্রধান আসামি রহিদুল পলাতক ছিলেন। গত ১২ আগস্ট রাতে র‍্যাব তাকে রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে শুক্রবার রাতে শিক্ষকের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। আসামিদের ফাঁসির দাবিতে অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কাজ করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com