স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দুবাইয়ে আটক রয়েছেন এমন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আরও দুই-এক দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কিছু নথি পাঠানো হবে। তিনি রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান। ওই মিটিংয়ে তিনি পুলিশের সাহসী কর্মকাণ্ডকে সম্মান জানানো ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, প্রথমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই কর্তৃপক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে যে কাগজপত্র চেয়েছিল, তা তারা তিন দিনের মধ্যে পাঠিয়েছে। এরপর রয়েল কোর্ট বা আদালত থেকে কয়েকটি বিস্তারিত বিষয় জানতে চাওয়া হয় এবং সেসব জবাবও দুই-এক দিনের মধ্যে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
পটভূমিতে, ১৪ জুন সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে বেনজীরকে দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার করা হয়েছে; ওই তথ্যের সূত্র হিসেবে বলা হয়েছিল ১২ জুন এনসিবি আবুধাবি থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলে বাংলাদেশকে এ তথ্য জানানো হয়। তারপর বাংলাদেশ সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যার্পণ চেয়েছিল। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি অনুবাদ করে কূটনীতিক পথে দুবাইয়ে পাঠায়, যেখানে গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ ও প্রত্যার্পণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল। এক মাসের মাথায় দুবাই পুলিশ সেটার জবাব দেয় এবং বেনজীর বর্তমানে সেখানে কারাগারে আটক রয়েছেন।
বেনজীর以前 ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক ও পরে আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন; সেই একই সময়ে তিনি সামরিকভাবে ক্ষমতাসম্পর্কিত ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে কর্মরত ছিলেন। ১০ ডিসেম্বর ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ২০২৪ সালে দুদক তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে এবং পরবর্তীতে আদালতের আদেশে তার ও পরিবারের সম্পদ জব্দ হয়। তদন্ত চলাকালীন ২০২৪ সালের ৪ মে তিনি স্ত্রীর ও সন্তানদের নিয়ে দেশ ত্যাগ করেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয় এবং দুদকের আবেদনের পর ইন্টারপোল ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল রেড নোটিশ জারি করে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বেনজীরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।