জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রতিকূল আবহাওয়া ও তীব্র বাতাসের কারণে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে জাহাজ ভিড়তে না পারায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ফের দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। গত মঙ্গলবার রাত থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। রান্নাবাড়ির ব্যাঘাতের পাশাপাশি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সারি।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। আসকার দিঘীর পাড় এলাকার বাসিন্দা সুস্মিতা পাল জানান, বুধবার সকাল থেকেই বাসায় গ্যাস না থাকায় রান্না করা সম্ভব হয়নি। বিকেলে কিছু সময়ের জন্য গ্যাস এলেও তা দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। একই চিত্র দেখা গেছে সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতেও। অক্সিজেন এলাকার একটি স্টেশনে অপেক্ষমাণ অটোরিকশাচালক আব্দুল গফুর জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না পাওয়ায় গাড়ি প্রতি রিফুয়েলিংয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বুধবার তা কমে মাত্র ১৮০ থেকে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতি প্রায় অর্ধেক। তবে কেজিডিসিএল জানিয়েছে, এবার কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে নয়, বরং সাগরের উত্তাল অবস্থা এবং বাতাসের তীব্রতার জন্যই এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস) মো. শোয়েব বলেন, এলএনজি জাহাজ নিরাপদে নোঙর করার জন্য বাতাসের গতিবেগ ২০ নটের নিচে থাকা প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে মহেশখালী অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ প্রায় ৩৮ নটে পৌঁছায় জাহাজ ভেড়ানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে এলে এবং জাহাজ ভিড়াতে পারলে সরবরাহ দ্রুত বাড়িয়ে সংকট নিরসন করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২১ জুলাই কারিগরি জটিলতার কারণে প্রায় দুই সপ্তাহ গ্যাস সংকটে ভুগেছিল চট্টগ্রামবাসী। চলতি মাসের শুরুতে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও নতুন করে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নগর জীবনে ফের স্থবিরতা নেমে এসেছে।