জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে ঢাকামুখী এসি বাস ও যাত্রীবাহী লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংঘর্ষের তীব্রতায় লেগুনাটির ছাদ সম্পূর্ণ উপড়ে গিয়ে সেটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বৃষ্টির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও উদ্ধার অভিযান
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘লাল সবুজ পরিবহন’-এর একটি এসি বাস কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে আসা ঈদগাঁওগামী একটি লেগুনার সঙ্গে খুটাখালী নয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে লেগুনার ভেতরের ৯ জন যাত্রীই গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ডুলাহাজারার মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে বাকি আটজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে একে একে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
দুর্ঘটনায় নিহত চারজন হলেন— মো. জসীম উদ্দিন (২৫), মোহাম্মদ শাহেদ (২৭), মো. জিয়াবুল হক (২৫) ও মোহাম্মদ রফিক (২৮)। এছাড়া কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ আহত ব্যক্তি হলেন— জিয়াবুল হক (৪০), দেলোয়ার হোসেন (৩৫), সৈয়দ আলম (৫০), মোহাম্মদ সরোয়ার (১৯) এবং সৈয়দ করিম (৩০)।
আইনগত ব্যবস্থা ও যান চলাচল স্বাভাবিক
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মালুমঘাট হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শামছুজ্জামান জানান, ভোরে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ক্রেনের সাহায্যে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সরিয়ে নিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।