জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও হকারদের দখলে চলে গেছে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সব ফুটপাত। উচ্ছেদ অভিযানের মাত্র কয়েক দিনের মাথাতেই ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে ফিরে এসেছে পুরোনো জঞ্জাল ও যানজটের চিরচেনা রূপ। চসিকের এমন সাময়িক উদ্যোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ পথচারীরা।
জানা গেছে, ভিআইপি এই সফরকে কেন্দ্র করে গত চার দিন ধরে নগরের ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করতে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ওই অভিযানের অংশ হিসেবে কাজীর দেউড়িসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে থাকা অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। নতুন রং ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ফলে পুরো এলাকায় একধরনের নান্দনিক রূপ ফিরে এসেছিল, যা নগরবাসীর মনে সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছিল।
তবে গত সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরের পর থেকেই দৃশ্যপট সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে শুরু করে। এদিন বিকেলে কাজীর দেউড়ি এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, আগের মতোই ফুটপাত এবং মূল সড়কের একটা অংশ দখল করে নিজেদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন হকাররা। এর ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পথচারী মো. জাহেদ হোসেন বলেন, “ভিআইপি সফরের সময় ফুটপাতগুলো ঝকঝকে ও পরিপাটি থাকে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই আবার সেই পুরোনো ভোগান্তি শুরু হয়। স্থায়ী কোনো তদারকি না থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপদে হেঁটে চলার অধিকার চিরকালই উপেক্ষিত থাকবে।”
অন্যদিকে, উচ্ছেদের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক হকার জানান, কোনো ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা না করেই বারবার এভাবে উচ্ছেদ করায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাদের দাবি, “পেটের তায়েই বাধ্য হয়ে আমাদের রাস্তায় বসতে হয়। কোনো স্থায়ী পুনর্বাসন না করে হঠাৎ করে উচ্ছেদ করলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হবে। আমরা চাই প্রশাসন যেন আগে আমাদের বিকল্প উপার্জনের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেয়।”
পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজীর দেউড়ি মোড় ও সার্কিট হাউজের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে তাদের নিয়মিত অভিযান ও তদারকি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
তবে নগরবিদ ও সচেতন নগরবাসীর অভিমত, কেবল লোকদেখানো বা সাময়িক অভিযান চালিয়ে কোনো স্থায়ী সুফল পাওয়া যাবে না। হকারদের জন্য সুনির্দিষ্ট বিকল্প স্থান নির্ধারণের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন এবং ট্রাফিক পুলিশের কঠোর নজরদারি ছাড়া ফুটপাতগুলো স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা অসম্ভব।