২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। দীর্ঘ দুই দশকের আইনি লড়াই শেষে উচ্চ আদালতের রায়ে তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস সালাম পিন্টুসহ দণ্ডিত সব আসামি খালাস পেয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের এই খালাসের রায় বহাল রেখেছেন, যার ফলে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়াটি একটি আইনি ও নৈতিক প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, ২০০৯ সালে সরকার পরিবর্তনের পর দ্বিতীয়বার তদন্তের মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে বিএনপি নেতাদের এই মামলায় জড়ানো হয়েছিল। বিচারিক আদালতের কার্যক্রম এবং তদন্ত প্রক্রিয়া রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ছিল বলেও তারা অভিযোগ তোলেন। এই প্রেক্ষাপটে, উচ্চ আদালত পূর্বের বিচারিক কার্যক্রমকে ত্রুটিপূর্ণ ও অবৈধ বিবেচনা করে খালাসের রায় প্রদান করেন।
রায়ের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—তাহলে সেই নৃশংস হামলায় প্রকৃত দায়ীদের বিচার কীভাবে হবে? ২৪ জন প্রাণ হারানোর ঘটনায় যারা আসল অপরাধী, তাদের বিচার কি অধরাই থেকে যাবে? যদিও আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণসহ রায় দিয়েছেন, তবে পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন আইনজীবীরা। এখন দেখার বিষয়, এ ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র নতুন কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।