নারায়ণগঞ্জ জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়েও আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির অবনতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে আগস্ট মাসে, যে সময়ে জেলায় মোট ৭১০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এর মধ্যে শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৫০ জন এবং বন্দর উপজেলায় ২৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া সোনারগাঁয়ে ১০০ জন, আড়াইহাজারে ৫৩ জন এবং রূপগঞ্জে ৪৯ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম তিন দিনেই আরও ১৪৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন করে ৪১ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সরকারি হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। ৩০০ ও ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন গড়ে অর্ধশতাধিক নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে গত জুলাই মাস পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক রোগী ভর্তি হলেও আগস্ট মাসে সেই সংখ্যা সাতশ ছাড়িয়ে গেছে। তবে বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ভর্তি রোগীর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে জানা গেছে।
যদিও স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে সরাসরি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কোনো হিসাব নেই, তবুও জেলার বাইরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের চেইনম্যান আবু ছিদ্দিক এবং সোনাকান্দা এলাকার গৃহবধূ আশা বেগম ঢাকায় নেওয়ার পথে বা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এমন প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং সরকারিভাবে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।