মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ২২ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৯৪৯টি। এসব সংঘর্ষে মোট আহত হয়েছেন ৯,৭৯৫ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ২১৩ জন। অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড ও আঘাত-প্রাপ্তি একই দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেই হয়েছে—বিশেষ করে বিএনপির two গ্রুপের সংঘর্ষগুলোতে ৪৯৪টি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আহত হয়েছেন ৫,৫৮১ জন এবং নিহত হয়েছেন ১১৮ জন। গত দুই বছরে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ, প্রভাব বিস্তার ও স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা—২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নরসিংদীর সদর উপজেলায় শ্রমিকদল নেতা আলম মিয়া নিহত; ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে মো. সেলিম ভূঁইয়ার মৃত্যু; ২০২৫ সালের ২১ মার্চ চট্টগ্রাম খুলশীতে সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা মো. জিহাদের গুলিবিদ্ধ হয়ে পরে ৩ এপ্রিল মৃত্যু; চলতি ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে জামায়াত নেতাকে হারানো; এবং ২৩ মার্চ কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরে আসার সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্থানীয় দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিকভাবে সংঘাত বাড়ছে। দলীয় নেতৃত্বের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকার পাশাপাশি পুলিশের মনোবল ক্ষীণ হওয়ায় অবস্থা আরও জটিল হচ্ছে—কারণ পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলার বিচার না হওয়া ও অনিয়মিত মামলা প্রক্রিয়া তাদের নিষ্ক্রিয় করে তুলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে বিশ্লেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, নেতাদের দায়িত্বপালন ও কর্মীদের নৈতিক ও রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে বলেছেন। অপরদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রয়োজনে লীগ্যাল স্ট্যান্ডার্ড মেনে বল প্রয়োগ করা হচ্ছে, অনেক কেসে মামলা এবং গ্রেফতারির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পুলিশ মনোবল ধরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে—তবে আন্দোলন, দায়বদ্ধ নেতৃত্ব ও কার্যকর বিচার ব্যবস্থার শূন্যতা না মেটালে সহিংসতা বন্ধ হবে না বলে সতর্ক করেছেন অনেকে।