নিজস্ব প্রতিবেদক, মোঃ মাইন উদ্দিন :
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মোঃ হানিফ মিয়া হত্যা মামলায় প্রথম দিনেই পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন এখনও পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত হানিফ মিয়া উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় সমিল শ্রমিক ও কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৩ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী লস্কর মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়।
পরিবারের দাবি, রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হানিফ মিয়া তার স্ত্রী আয়েশা বেগমকে মোবাইল ফোনে কল করে প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা জানান। তিনি ফোনে বলেন, “আমাকে বাঁচাও, জাকিররা আমাকে মেরে ফেলবে।” খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত অভিযুক্তদের বাড়িতে পৌঁছালেও গেট বন্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে লস্কর মিয়ার বাড়ি থেকে আনুমানিক দেড়শো ফিট পূর্ব দিকে ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন একটি পতিত জমি থেকে হানিফ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের আগেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে লস্কর মিয়া (৬০), হেলেনা বেগম (৪০), জীবন মিয়া (২৫), নাদিয়া আক্তার (২০) ও রুকিয়া বেগম (৫০)-কে আটক করে পুলিশ। পরে মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, এলাকায় দীর্ঘদিনের বিরোধ ও মাদক ব্যবসা কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পলাতক জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত লস্কর মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় বাড়ির ভেতরে ও বাইরে থাকা একটি মোটরসাইকেলও পুড়ে যায়।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।