আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ‘রাজনৈতিক জোকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, কাদেরের অসংলগ্ন ও উসকানিমূলক বক্তব্য অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকটকাররা বিনোদনের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহতের ঘটনার দায় ওবায়দুল কাদেরের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ওপরই বর্তায় বলে তিনি দাবি করেন।
বুধবার ট্রাইব্যুনালে এই মামলার ষষ্ঠ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে চিফ প্রসিকিউটর ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানান। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে সাধারণ মানুষকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক মনে করত এবং তাদের দলের নেতাকর্মীরাও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নির্যাতন ও হত্যার মতো অপরাধে যুক্ত ছিল। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য এই কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এই বিচার প্রক্রিয়া চলছে। ওবায়দুল কাদের ছাড়াও এই মামলায় আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় আইন অনুযায়ী তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন। প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিরা সুপিরিয়র কমান্ড বা ঊর্ধ্বতন দায়িত্বে থেকে আন্দোলনের সময় পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা ও নির্যাতনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।