ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাৎ ঘটনার সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আবার আলোচনায় এসেছে। হাইকোর্টে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে জেএমসি বিল্ডার্সের মাধ্যমে ব্যাংকের শেয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং এস আলম গ্রুপের স্বার্থ রক্ষায় তার ভূমিকা ছিল।
প্রতিবেদনে তদন্তকারীরা জানিয়েছে, ২০১৭ সালে সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এস আলম গ্রুপ ব্যাংক কোম্পানি আইনের একাধিক বিধান লঙ্ঘন করে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেই সময় জেএমসি বিল্ডার্সের পক্ষে মো. সাহাবুদ্দিনকে পরিচালনা পর্ষদে নামানো হয় এবং পরে তিনি ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন; রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) এ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।
দ্রæত তদন্ত শেষে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্স জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে তোলা অর্থ দিয়েই পুনরায় শেয়ার কেনে এবং পরিচালনা পর্ষদে থেকে এস আলমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে ব্যাংকটিকে আর্থিক সংকটে ফেলে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে জেএমসির ব্যবহার করা অর্থের একটি অংশ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক থেকে অনিয়ম করে নেওয়া হয়েছিল। বিএফআইইউ এই প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করেছে এবং শুনানির জন্য বিষয়টি আগামী বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চে তোলা হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউর আইনজীবী শামিম খালেদ জানিয়েছেন।