মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন
Title :
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান সাভারে ককটেল বিস্ফোরণ, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে কিয়েভে হামলা, নিহত ১৪ ভারি বর্ষণে খুঁটি ভেঙে বান্দরবানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ সৌদি প্রবাসীদের যে বিষয়ে সতর্ক করল দূতাবাস ইসরায়েলের হাত ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র? নিউইয়র্কে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে ‘প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশ’-এর জরুরি সভা সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩ চসিকের ৩,৩০০ পরিচ্ছন্ন কর্মীকে রেইনকোট দিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত খাগড়াছড়ি রামগড়ে চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলা: ১ বছরের মাথায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে কিয়েভে হামলা, নিহত ১৪

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ Time View
15

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আজ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর দু্ই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনের ঠিক আগে গত রোববার রাতভর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রুশ বাহিনী। এতে অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। হামলায় বহু আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কিয়েভ জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকটের কারণে রাশিয়ার ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। দেশটির বিমান বাহিনী বলছে, গত রোববার রাতে কিয়েভ লক্ষ্য করে রাশিয়া যে ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, তাঁর একটিও ভূপাতিত করা যায়নি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মিত্র দেশগুলোর প্রতি কিয়েভকে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ার হামলার পর সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার ছোড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বড় অংশ প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পারেনি।

তাঁর ভাষ্য, রোববার রাতের বৃহৎ রুশ হামলায় মোট ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫১টি আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করা হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র মিত্র দেশগুলোর গুদামে পড়ে থাকা পর্যন্ত ইউক্রেনের আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়ে যাবে রাশিয়া।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল সোমবার সকালে কিয়েভজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যায়। শহরের অন্তত তিনটি বহুতল আবাসিক ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে, যার কয়েকটিতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে উদ্ধারকারীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন নিয়ন্ত্রণে নদী থেকে পানি এনে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আগুন নেভানোর কাজ চলছে।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রুশ হামলায় শহরের বিভিন্ন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি আবাসিক ভবনে আগুন লাগে। এ ছাড়া গুদামঘর, একটি গ্যারেজ-ওয়ার্কশপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার সকালে ইউক্রেনের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানায়, এ পর্যন্ত কিয়েভে ১৪ জন নিহত এবং ১১৭ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, আহতদের মধ্যে কয়েক শিশুও রয়েছে।

ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু করছে। তবে মস্কোর দাবি, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তারা সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে জেলেনস্কির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে।

এ বছরেই ‘ড্রোন চুক্তি’ করতে চায় ইউক্রেন
ইউক্রেন চলতি বছরের শেষ নাগাদ ন্যাটোভুক্ত অন্তত সাতটি দেশের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি, বিশেষ করে ‘ড্রোন ডিল’ সইয়ের আশা করছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে গত কয়েক মাসে ছয়টি দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করেছে ইউক্রেন। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশ– সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার। এ ছাড়া আজারবাইজান এবং ন্যাটোর সদস্য লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়াও ইউক্রেনের সঙ্গে একই ধরনের সমঝোতা করেছে।

ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের উপসচিব ডেভিড আলোইয়ান জানান, ‘ড্রোন চুক্তি’ নাম হলেও এর পরিধি শুধু ড্রোন সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এতে ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান, বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন উপাদান, সেন্সর, গ্রাউন্ড স্টেশন এবং রাডার ব্যবস্থাসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com