সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন

রাখাইনে সংঘাত, টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির কড়াকড়ি

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৮ Time View
50

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘাত এবং সীমান্তের ওপারে বিমান হামলার ঘটনার পর কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও সীমান্তপথে চোরাচালান ঠেকাতে স্থল ও নৌ টহল বাড়ানোর পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকাল ৩টার দিকে টেকনাফ-২ বিজিবির লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমানের নেতৃত্বে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বিশেষ টহল পরিচালনা করা হয়। একই সময়ে নাফ নদীতে নৌ টহলও জোরদার করা হয়। এছাড়া টেকনাফ সদর থেকে শাহপরীরদ্বীপ ও হ্নীলা পর্যন্ত পুরো সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বা অবৈধ কর্মকাণ্ড ঘটতে না পারে।

এর আগে বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার পর মিয়ানমারের মংডু ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফা বিমান হামলার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ টেকনাফ সীমান্ত পর্যন্ত ভেসে আসে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকেও আবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রথমে ভূমিকম্প হয়েছে মনে করে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।”

শাহপরীরদ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আলম জানান, বুধবার রাতে কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বৃহস্পতিবার সকালেও একটি বিস্ফোরণের শব্দ হয়। পরে সীমান্তের ওপারে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় নাফ নদীতে অনেক জেলেও মাছ ধরতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।

এদিকে একটি রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আজম উল্লাহ দাবি করেন, বুথিডং এলাকার চারলাইন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকটি রোহিঙ্গা গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তার ভাষ্য, চলমান হামলার কারণে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া সীমান্ত এলাকায় অহেতুক ঘোরাঘুরি না করার অনুরোধ করা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর ধাপে ধাপে রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুথিডং ও রাথেডংসহ বিস্তীর্ণ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বর্তমানে এসব এলাকার বিপরীতে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা অবস্থিত। তবে ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নতুন করে বিমান ও স্থল হামলা চালাচ্ছে। একই সময়ে রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় আরাকান আর্মির সঙ্গে কয়েকটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষও অব্যাহত রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com