মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
Title :
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান সাভারে ককটেল বিস্ফোরণ, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে কিয়েভে হামলা, নিহত ১৪ ভারি বর্ষণে খুঁটি ভেঙে বান্দরবানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ সৌদি প্রবাসীদের যে বিষয়ে সতর্ক করল দূতাবাস ইসরায়েলের হাত ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র? নিউইয়র্কে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে ‘প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশ’-এর জরুরি সভা সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩ চসিকের ৩,৩০০ পরিচ্ছন্ন কর্মীকে রেইনকোট দিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত খাগড়াছড়ি রামগড়ে চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলা: ১ বছরের মাথায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

নিউইয়র্কে প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৯৯ Time View
108

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রেসক্লাব কয়টা? কতজন কর্মরত সাংবাদিক আছেন এই শহরে? সম্প্রতি নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নির্বাচনের পর নতুন করে এই প্রশ্নটি সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ প্রবাসীরা।
প্রবাসীদের প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে – নিউইয়র্কে মোট পাঁচটি প্রেসক্লাব রয়েছে। এরমধ্যে কমবেশী সক্রিয় আছে তিনটি। কর্মরত সাংবাদিক আছেন হাতেগোনা ২০ জন। কিন্তু পাঁচটি প্রেসক্লাবের সদস্য প্রায় দুই শতাধিক। অনেক সাংবাদিক আছেন, যাদের স্ত্রীরাও প্রেসক্লাবের সদস্য হয়েছেন। এমন ঘটনা সব প্রেসক্লাবেই।
বাংলাদেশে মোট জেলা ৬৪টি। সঙ্গত কারণে নিউইয়র্কে ৬৪টি আঞ্চলিক সংগঠন থাকার কথা। অথচ অনৈক্যর কারণে জেলা-উপজেলা মিলিয়ে আঞ্চলিক সংগঠন আছে প্রায় দুইশো’র বেশী। আঞ্চলিক সংগঠন ছাড়াও রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে শতাধিক। সাংবাদিকরাও এর বাইরে নয়। ২০০৮ সালে একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নিউইয়র্কে দুটি প্রেসক্লাবের জন্ম হয়। একটি নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, অন্যটি আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব। নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব শুরু থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠিত হয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের কমিটি হয়েছে সিলেকশনের মাধ্যমে। দীর্ঘদিন ক্লাবটির কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় ছিল। ২০১২ সালের দিকে ক্লাবটি সক্রিয় হলেও ২০১৮ সালে নেতৃত্বের কোন্দলে তা ভেঙে যায়। পরে একই নামে দুটি প্রেসক্লাব সমান্তরাল যাত্রা শুরু করে। ২০২২ সালে খণ্ডিত একটি অংশ আবার ভেঙে যায়। ফলে একই নামে তিনটি প্রেসক্লাব যাত্রা শুরু করে। তাদের একটি অংশের কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।
বর্তমানে নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ছাড়া একই নামে আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের তিনটি অংশই কমবেশী নিষ্ক্রিয় রয়েছে। দুই বছর পর পর নতুন কমিটি গঠন এবং বনভোজন ছাড়া আর কোনো কার্যক্রম নেই তাদের।
গত ৮ নভেম্বর শনিবার নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই ক্লাবের সদস্য ১০৫ জন, যাদের মধ্যে ৯৪ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রেসক্লাবের নির্বাচন এবং পরবর্তীতে ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ প্রবাসীরা নানান প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে ১০৫ জন সাংবাদিকের মধ্যে কতজন নিউইয়র্কে কর্মরত আছেন সেই প্রশ্ন সামনে চলে আসে।
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অরিজিন নামে একটি প্রেসক্লাব কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে এর কোনো কার্যক্রম নেই। এই প্রেসক্লাবকে অনেকে ‘ওয়ানম্যান শো’ প্রেসক্লাব বলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কমিউনিটির প্রবীণ ব্যক্তিত্ব নাসির আলী খান পল গত ৭ নভেম্বর শুক্রবার এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘নিউইয়কে কটি প্রেসক্লাব আছে? একজন বললেন বরিশাল সমিতি কয়টা আছে? বরিশাল জাতির বিবেক ক্লেইম করে না। আপনারা জাতির বিবেক যদি চার ভাগ হন, তবে সেই জাতির ভবিষৎ কি?’
নাসির আলী খান পলের ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আজাদ আহমেদ একমাত্র মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘ভাই আমরাই প্রথম প্রেসক্লাব করি। এই ক্লাবের আগামীকাল নির্বাচন। ভোট দিতে যাচ্ছি। নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব।’
কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সৈয়দ আল-আমীন রাসেল গত ৭ নভেম্বর শুক্রবার ফেসবুকে প্রেসক্লাব নিয়ে একটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘নিউইয়র্কে মোট প্রেসক্লাব কয়টা? মোট প্রফেশনাল ও পার্টটাইম সাংবাদিক কতজন?’
সৈয়দ আল-আমীন রাসেলের এই স্ট্যাটাসে যে ২০ জন কমেন্ট করেছেন তারা সবাই কমিউনিটির পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক ট্রাস্টি ও ট্যাক্স বিশেষজ্ঞ ওয়াসি চৌধুরী লিখেছেন, ‘সবাই একে অপরকে সাহায্য করছে, যা খুবই ভালো। কিন্তু এক ছাতার নিচে থাকতে পারছে না।’
বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি ও কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার আহসান হাবিব লিখেছেন – ‘নিউইয়র্কের মোট বাংলাদেশি জনসংখ্যা দেশের অনেক থানার চেয়েও কম। প্রকৃতপক্ষে এই মানুষদের জন্য কতগুলো পত্রিকা বা সাংবাদিক প্রয়োজন তা বিবেচনায় নিলে সব পরিস্কার হয়ে যাবে।’
সৈয়দ আল-আমীন রাসেলের স্ট্যাটাসে অনেকে গঠনমূলক সমালোচনা করলেও কেউ কেউ বুঝে না বুঝে বাজে মন্তব্য করেছেন। যারা বাজে মন্তব্য করেছেন তাদের অনেকেই কমিউনিটিতে নানা কারণে বিতর্কিত ও সমালোচিত।
তবে, সব প্রেসক্লাবেই নামধারী কিছু লোক আছে, যারা পেশার সঙ্গে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নেই। তাদের কাজ হচ্ছে, সাংবাদিক নাম ভাঙিয়ে এবং কোনো প্রকার আমন্ত্রণ ছাড়াই কমিউনিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘খাবার খাওয়া। তাদের সংখ্যা হাতেগোনা। অনেকে ‘হোমলেস’ সাংবাদিক হিসাবেও পরিচিত। কিন্তু তারা প্রেসক্লাবের সক্রিয় সদস্য। ভোট পাওয়ার আশায় তাদের সদস্যপদ বহাল রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে- নিউইয়র্কে কিছু টাউট বাটপার আছে, যারা সারা দিন অন্যপেশায় থেকে সন্ধ্যাবেলা জ্যাকসন হাইটসে এসে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দেয়। নিজেরা কোন পেশায় আছে তা বলতে না পারায় বেদনা ঘোঁচাতে ওই বাটপাররা মিথ্যা পরিচয় দিচ্ছে। অথচ আমেরিকায় কোনো পেশাই ছোট নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com