ইমাম হাছাইন পিন্টু, নাটোর
নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন দুটি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর। মশিন্দা ইউনিয়নের বাহাদুরপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বেড তৈরির ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভালো বালুর বদলে মাটিমিশ্রিত বালু এবং নতুন ইটের খোয়ার পরিবর্তে নামমাত্র পুরোনো ও আধলা ইট ব্যবহার করা হচ্ছিল। অনিয়মের বিষয়টি হাতেনাতে ধরে স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানান এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও করে তা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা প্রকৌশলী মোেম্বারক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
এ সময় গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে কোদাল দিয়ে সড়কের বেড খুঁড়ে বালু ও খোয়ার নিম্নমানের মিশ্রণ বের করে দেখানো হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা প্রকৌশলী তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে মশিন্দা শিকারপাড়া থেকে খুবজীপুর এবং আনন্দনগর থেকে সাহাপুর পর্যন্ত দুটি সড়ক নির্মাণের এই প্রকল্পের কাজ পায় নাটোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাবিবুর আলম। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ সড়ক দুটির কাজের উদ্বোধন করেছিলেন।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিলন মিয়া জানান, শিডিউল অনুযায়ী ১০ ইঞ্চি বালুর স্তরের ওপর ৭ ইঞ্চি বালু ও ইটের খোয়া মিশিয়ে বেড তৈরি এবং পরবর্তীতে ৬ ইঞ্চি পাথরের ঢালাই দেওয়ার কথা। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে খোয়ার সাথে মাটি মেশানো এবং নিম্নমানের ইট ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিনের দাবির পর পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজের কারণে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে তারা শঙ্কিত। তাই তারা কোনো অনিয়ম মেনে নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, কাজের মানে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়ম মেনে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।
অন্যদিকে ঠিকাদার মো. রুহুল আমিন দাবি করেন, কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে তা যাচাই করা যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার্থে কোনোভাবেই নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করা হবে না বলেও জানান তিনি।