বিচার বিভাগের বিচারকদের জন্য যেভাবে আলাদা বেতন কাঠামোর ব্যবস্থা রয়েছে, ঠিক তেমনি দেশের শিক্ষকদের জন্যও ভবিষ্যতে একটি পৃথক পে-স্কেল প্রণয়নের কথা ভাবছে সরকার। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রথম স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল গঠিত হতে চলেছে, যেখানে হঠাৎ করে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য আনা সম্ভব হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে এবং বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের উপলব্ধিতে রয়েছে বলে তিনি জানান।
শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ভোগান্তি লাঘবে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ড. এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের মতো শিক্ষকদের জন্যও পৃথক বেতন কাঠামো চালুর বিষয়টি অত্যন্ত বড় একটি সিদ্ধান্ত, যা রাজনৈতিক সরকারের পক্ষে রাতারাতি বাস্তবায়ন করা কিছুটা সময়সাপেক্ষ। তবে সরকার ধীরে ধীরে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাচ্ছে এবং শিক্ষকদের আর্থিক অস্বচ্ছতা দূর করতে ক্রমান্বয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের বকেয়া পাওনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় ইতিমধ্যে ২০২১ সাল থেকে শুরু করে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত শিক্ষকদের নিজস্ব অবদানের অংশ তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বাকি অংশের সমন্বয় সাধনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আসন্ন জাতীয় বাজেটগুলোর মাধ্যমে শিক্ষকদের এই দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই উচ্চপর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক ছাড়াও বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং শিক্ষা খাতের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।