ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন মাঠপর্যায়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন শাখা থেকে এসংক্রান্ত একটি বিশেষ পরিপত্র জারি করা হয়, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে কোনো ধরনের বিধিবহির্ভূত সুপারিশ বা তদবির বরদাস্ত করা হবে না। সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনাপত্রটি দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকুরিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের পদায়ন বা বদলি সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক প্রয়োজন, জনস্বার্থ এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমের স্বাভাবিকতা বিবেচনা করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জনগণকে দ্রুত সেবা প্রদান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু লক্ষ্য করা গেছে যে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কর্মী পদায়নের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেদের পছন্দমতো স্থানে বদলি হওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক ব্যক্তির মাধ্যমে তদবির করা শুরু করেছেন।
এই ধরনের প্রবণতাকে সরকারি চাকুরির শৃঙ্খলা, পদায়ন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মর্যাদার সম্পূর্ণ পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯-এর বিধান অনুযায়ী এই ধরনের কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। তবে কোনো কর্মীর যদি সত্যিই অনিবার্য বা যৌক্তিক কোনো কারণে দুই বছর পূর্তির আগে বদলির প্রয়োজন পড়ে, তবে তিনি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি বা কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কোনো ধরনের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা মাঠপর্যায়ের সকল কর্মীকে নিজ নিজ কর্মস্থলে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে কোনো কর্মী যদি নিয়ম ভেঙে বদলির জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তদবির করান কিংবা কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালান, তবে সেই বিষয়টি কঠোরভাবে নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে এই ধরনের নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পরিপত্রে সতর্ক করা হয়েছে।