ইমাম হাছাইন পিন্টু, নাটোর
নাটোরে চলনবিলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসন। বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে এই কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ শুরু হওয়ায় বিলের পানিপ্রবাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
জানা যায়, চলনবিলে অতিরিক্ত কচুরিপানা জমে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরির পাশাপাশি নৌযান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছিল। এছাড়া কৃষিজমি থেকে সময়মতো পানি না নামায় রবিশস্যের আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন স্থানীয় কৃষকরা। সম্প্রতি গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে প্রশাসনের।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজের উদ্যোগে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে কচুরিপানা কেটে পানির পথ সুগম করা হচ্ছে, যা আটকে থাকা পানি নিষ্কাশনে সাহায্য করছে এবং নৌকা চলাচলের পথ উন্মুক্ত করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা জানান, কচুরিপানার কারণে তাদের দৈনন্দিন চলাচল ও কৃষি কার্যক্রমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। প্রশাসন এই উদ্যোগ নেওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং নিয়মিত এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় মৎস্যজীবীরাও আশাবাদী যে, কচুরিপানা অপসারণের ফলে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ বাড়বে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ জানান, চলনবিলের জলাবদ্ধতা দূর করতে, নৌ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির প্রয়োজন সাপেক্ষে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কচুরিপানার জট কেটে যাওয়ায় চলনবিলে এখন ধীরে ধীরে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরছে, যা এলাকার কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ খাতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।