জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিরোধী দল থেকে নামের তালিকা পাওয়া সাপেক্ষে কমিটিগুলো দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে। অধিবেশনটি প্রাথমিকভাবে স্বল্পমেয়াদী হলেও প্রয়োজনে এর সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এই অধিবেশনে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত বিলসহ মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনটির লক্ষ্য হলো বাবা-মায়ের অধিকার নিশ্চিত করা, যাতে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও তারা জীবনভর তা ভোগদখলের সুযোগ পান।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে চিফ হুইপ জানান, এ লক্ষ্যে ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনকে একটি স্বাভাবিক কার্যক্রম হিসেবে অভিহিত করে ভারতের সংবিধানের উদাহরণ টেনেছেন। এছাড়া, সংসদের ভেতরেই গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দেশের সমস্যা সমাধানের জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রাস্তায় অস্থিরতা সৃষ্টি না করে সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চায় মনোনিবেশ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।
বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও বিদ্যুৎ খাতের জটিলতা নিয়েও কথা বলেছেন নূরুল ইসলাম মনি। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের জঞ্জাল দূর করতে সময়ের প্রয়োজন এবং মাত্র ছয় মাসের শাসনামলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বিশেষ করে বিগত সরকারের আমলে করা বিদ্যুৎ খাতের বিতর্কিত চুক্তিগুলো দেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আদানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিকে ‘গর্হিত অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি দেশের স্বার্থে এসব চুক্তির নেতিবাচক প্রভাব থেকে উত্তরণে ধৈর্য ও জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন।