দীর্ঘ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস অতিক্রম করেছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সরকার নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা অন্যতম। যদিও সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তরণে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল, তবুও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর দৃশ্যমান প্রভাব এখনো সীমিত।
সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা প্যাকেজ, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো বিভিন্ন জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গতি আনতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর এবং ইইউ ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নীতিগত এসব উদ্যোগের বাস্তব প্রতিফলন এখনো অর্থনীতিতে পুরোপুরি ধরা পড়েনি। মূল্যস্ফীতির চাপ এবং কর্মসংস্থানের ধীরগতি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনো কাঙ্ক্ষিত আস্থা ফিরে আসেনি এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া গ্যাস ও জ্বালানি সংকট শিল্প উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সরাসরি রপ্তানি আয় ও রাজস্ব আদায়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকলেও খেলাপি ঋণের উচ্চ হার ও আইনি সংস্কারের ধীরগতি অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, সরকারের প্রথম ছয় মাস ছিল ঘরোয়া সংকট আর বৈশ্বিক অস্থিরতা সামাল দেওয়ার এক কঠিন পরীক্ষা।