মোঃ মাইনুল হক (নীলফামারী)
নীলফামারীর পার্শ্ববর্তী রংপুরের বদরগঞ্জে প্রশাসনের নির্দেশনা ও সরকারি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কথিত শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। এই মেলার আড়ালে অনুমোদনহীন লটারি ও জুয়ার রমরমা আসর বসানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আয়োজকদের বিরুদ্ধে। লোভনীয় পুরস্কারের ফাঁদে পড়ে এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেলা প্রাঙ্গণে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চস্বরে মাইকিং, রঙিন আলোকসজ্জা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চালানো হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন সরকারি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নির্দেশনা চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে, অন্যদিকে তীব্র শব্দদূষণের কারণে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
তীব্র যানজটে চরম দুর্ভোগ
এই মেলাকে কেন্দ্র করে রংপুর-পার্বতীপুর সড়কে প্রায়শই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের কারণে দূরপাল্লার যাত্রী, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, পথচারী এবং বয়স্কদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
লটারির প্রলোভনে সর্বস্বান্ত সাধারণ মানুষ
অভিযোগ রয়েছে, মেলায় আকর্ষণীয় পণ্যের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে লটারির টিকিট কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ প্রতিদিন এই পেছনে অর্থ ব্যয় করছেন, এমনকি অনেকে ধারদেনা করেও লটারিতে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া মেলার কারণে এলাকায় চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম বেড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
বিদ্যুৎ সাশ্রয় নীতির প্রকাশ্যে লঙ্ঘন
সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও ব্যবস্থাপনা নীতি অনুযায়ী শপিংমল ও দোকানপাট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বন্ধ রাখা এবং আলোকসজ্জা পরিহারের নির্দেশ রয়েছে। অথচ এই মেলায় রাতভর বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও জমকালো আলোকসজ্জা ব্যবহার করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং অর্থ দিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে মেলার আয়োজকদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দ্রুত এই মেলার সার্বিক কার্যক্রম তদন্ত করে অবৈধ লটারি বন্ধ, যানজট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।