তীব্র তাপপ্রবাহ এবং দীর্ঘমেয়াদী লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পোল্ট্রি খামারিরা চরম সংকটে পড়েছেন। পর্যাপ্ত বাতাস ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের অভাবে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন শত শত মুরগি মারা যাচ্ছে, যা খামারিদের জন্য এক ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক খামারি লোকসান সামলাতে না পেরে অবশিষ্ট মুরগিগুলো তড়িঘড়ি করে নামমাত্র দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন, এমনকি অনেকে খামার স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
খামারিদের অভিযোগ, পোল্ট্রি ফিড, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের আকাশচুম্বী দামের কারণে উৎপাদন খরচ এমনিতেই অনেক বেশি। এর ওপর লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটর চালাতে গিয়ে ব্যয় আরও বাড়ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে খামারের পরিবেশ বিপর্যস্ত হওয়ায় ডিম উৎপাদনও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। তথ্য অনুযায়ী, বিগত পাঁচ বছরে জেলায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ খামার বন্ধ হয়ে গেছে, যা দেশের সামগ্রিক মাংস ও ডিমের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভুক্তভোগীরা পোল্ট্রি খামারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফিড ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি তদারকির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে খামারিদের সতর্কতামূলক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং পোল্ট্রি খাতে বিদ্যুৎ ও খাদ্যের ওপর ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই শিল্প টিকে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।