পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতা এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি দাবি করেন, দুর্গম পাহাড়ে তিনটি নির্দিষ্ট পথ দিয়ে প্রতিনিয়ত আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র প্রবেশ করছে। এ ধরনের অস্ত্র চোরাচালান ও সশস্ত্র গোষ্ঠীদের তৎপরতা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নুরুল হক নুরের অভিযোগ, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতায় পাহাড়ি অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ভারত ও মিয়ানমার ছাড়া অন্য কোনো দেশের পক্ষে পাহাড়ে অস্ত্র সরবরাহ বা প্রশিক্ষণ দেওয়া অসম্ভব। এছাড়া, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে জাতীয় স্বার্থে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে সংস্থাগুলো তাদের মূল দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়েছিল, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।
পার্বত্য অঞ্চল থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবির কঠোর বিরোধিতা করে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনী সেখানে মোতায়েন রয়েছে। এ সময় তিনি পাহাড়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দূরদর্শী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সকল রাজনৈতিক দলকে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত।