কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে অন্তত ১৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। চলতি শতাব্দীতে দেশটিতে ঘটা সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে আহতের সংখ্যা ৫৭০ ছাড়িয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন আরও শত শত মানুষ। সোমবার আঘাত হানা এই দুর্যোগের প্রভাবে কালি, পেরেইরা ও কিবদোসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসাবমতে, শুধু কালিতেই অন্তত ২০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং প্রায় ৩৮০টি ভবন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কম্পনটি প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দেশটিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। বর্তমানে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ডিজিটাল ডেটাবেইসে ইতোমধ্যে ১৪ শতাধিক মানুষের নাম জমা পড়েছে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও উদ্ধারকাজের সুবিধার্থে বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় কলম্বিয়া প্রায়ই ভূমিকম্পের কবলে পড়লেও, এই মাত্রার কম্পন দেশটিতে বিরল। বিপর্যয় মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহল সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। এছাড়া মেক্সিকো, চিলি, ফ্রান্স ও ইসরায়েলসহ লাতিন আমেরিকার বেশ কিছু দেশ উদ্ধারকার্যে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ যত এগিয়ে যাচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।