অনেকেই খুব সহজে সবকিছু মনে রাখতে পারেন আবার ভুলেও যান। তবে ভালোভাবে চিন্তা করা, মনে রাখা আর মনোযোগ ধরে রাখার জন্য শুধু ঘুম বা ব্যায়াম নয়, দরকার সঠিক খাবারও। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কের কোষ সক্রিয় থাকে, স্মৃতিশক্তি বাড়ে এবং বয়স বাড়লেও চিন্তাশক্তি কমে না। নিচে এমন ১০টি খাবারের তালিকা দেওয়া হলো, যেগুলো মস্তিষ্ককে রাখে তীক্ষ্ণ ও সচল—
আখরোট:
আখরোট দেখতে যেমন মস্তিষ্কের মতো, কাজেও তেমন। এতে আছে ওমেগা–৩ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং বয়সজনিত ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কমায়। প্রতিদিন অল্প একমুঠো আখরোট খাওয়া মস্তিষ্কের জন্য খুব উপকারী।
তেলযুক্ত মাছ :
স্যামন, সার্ডিন, ম্যাকেরেল এই মাছগুলোতে আছে ডিএইচএ নামের ফ্যাটি অ্যাসিড, যা মস্তিষ্কের কোষকে সচল রাখে ও চিন্তাশক্তি বাড়ায়। নিয়মিত তেলযুক্ত মাছ খেলে মানসিক ক্লান্তি ও ভুলে যাওয়ার সমস্যা কমে।
ব্লুবেরি:
ছোট এই ফলটি স্মৃতির রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। এতে থাকা উপাদান মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়ায় এবং মানসিক চাপের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত ব্লুবেরি খেলে শেখার ক্ষমতা ও মনে রাখার শক্তি বাড়ে।
হলুদ:
হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন মস্তিষ্কে নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে এবং মন ভালো রাখে। এটি স্মৃতিশক্তি ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।
সবুজ শাকসবজি :
পালং, কেল, সরিষা এসব শাকে আছে ফলেট, ভিটামিন কে ও লুটিন, যা মস্তিষ্কের কোষকে পুষ্টি দেয়। যারা নিয়মিত শাকসবজি খান, তাদের চিন্তাশক্তি দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
ডিম:
ডিমের কুসুমে থাকা কোলিন নামক উপাদান মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া ডিমে থাকা বি ভিটামিন মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর করে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করে।
কফি:
কফির ক্যাফেইন ঘুমভাব দূর করে ও মনোযোগ বাড়ায়। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্ককে রক্ষা করে। তবে সীমিত পরিমাণে কফি পান করাই ভালো।
কুমড়ার বীজ:
ছোট এই বীজে আছে ম্যাগনেশিয়াম, দস্তা ও লোহা—যা স্মৃতি, মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এক চামচ কুমড়ার বীজ খাওয়া মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।
ডার্ক চকোলেট:
৭০ শতাংশ বা তার বেশি কোকোযুক্ত ডার্ক চকোলেট রক্তপ্রবাহ বাড়ায়, মন ভালো রাখে ও মনোযোগ বাড়ায়। এটি মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর করে এবং চিন্তাশক্তি তীক্ষ্ণ রাখে।
পূর্ণ শস্য:
ব্রাউন রাইস, ওটস, মিলেট এই শস্যগুলো ধীরে ধীরে শক্তি দেয়, ফলে সারাদিন মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। নিয়মিত পূর্ণ শস্য খেলে মনোযোগ ও মানসিক স্থিতি বজায় থাকে।
বি.দ্র: এই লেখাটি সাধারণ তথ্য দেয়ার জন্য। চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যবিষয়ক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।