যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম) থেকে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে এই মহড়া শুরু হয় এবং এটি পূর্বের যে ইরানি হামলার চেষ্টার জবাবে নেওয়া হয়েছে।
হামলার সময় কেশম, কিশ, বন্দর আব্বাস, আবাদান ও বুশেহরে বিস্ফোরণের শব্দে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আগের একই দিনে মিসরের দামিয়েত্তার সমুদ্রবন্দর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি গ্যাস স্টোরেজ ট্যাংকারে ড্রোন হামলার তথ্য দিয়েছে ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে, আর একই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি বাহিনী ইরাকের পূর্বাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। এ সময় জর্ডানে মার্কিন সেনা ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র চালানো হয়। মিসরীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় বন্দরে আগুন লাগার কথা নিশ্চিত করলেও ড্রোন হামলার বিষয়টি আলাদা করে উল্লেখ করেনি; হামলার জন্য এখনই কে দায়ী তা নিশ্চিত হয়নি। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরাক ও মিসরে ঘটা এসব বিবাদ মধ্যপ্রাচ্যের আরও দেশকে সংঘাতে টেনে আনতে পারে, যেখানে পূর্বে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষনা করেছিল।
সংযুক্তভাবে, হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়াভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ইরানের প্রতি শক্তিশালী জবাব দেয়া হবে, তবে একই সঙ্গে কূটনৈতিক ব্যবস্থাও অনুসরণ করা হবে বলে পুনঃবক্তব্য রেখেছেন। তেহরান বলেছে তারা জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকেও লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে এবং ওমানের ওই নৌপথ ব্যবস্থাপনায় যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। বিদ্যমান বিবৃতির ভিত্তিতে এই সংঘাতের সূচনা ফ্রেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে হলেও জুনে ভাঙা সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর হরমুজকে কেন্দ্র করে সংঘাত আবার আহামরি হয়েছে; ইরান বর্তমানে ওই প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি করে আসছে। সূত্র: আল-জাজিরা, স্থানীয় রিপোর্ট ও Jagonews24।