জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি
কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটির জেরে চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় একদিকে যেমন অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো, অন্যদিকে চট্টগ্রামের ইস্পাতসহ ভারী শিল্প ও বাসাবাড়িতে দেখা দিয়েছে তীব্র ভোগান্তি।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে গড়ে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হলেও বর্তমান ত্রুটির কারণে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে।
শিল্প উৎপাদনে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
চট্টগ্রামে গ্যাস বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) জানায়, দৈনিক ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহের বিপরীতে হঠাৎ করেই সরবরাহ কমে গেছে ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট।
হঠাৎ এই সরবরাহ ঘাটতিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চট্টগ্রামের শিল্প উদ্যোক্তারা। মোস্তফা হাকিম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ সরোয়ার আলম জানান:
”আমাদের এইচএম স্টিল ও গোল্ডেন ইস্পাত কারখানায় গ্যাসের চাপ কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে কম পাওয়া যাচ্ছে। এতে চুল্লি প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় তুলতে সময় বেশি লাগছে, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এ সংকট সমাধান না হলে ইস্পাত শিল্পে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।”
সিএনজি স্টেশনে মাইলেজ দীর্ঘ লাইন, বাসাবাড়িতে হাহাকার
গত কয়েকদিন ধরে নগরীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। অনেক স্টেশনে গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে কর্মঘণ্টা হারানোর পাশাপাশি দৈনিক আয় কমে চরম বিপাকে পড়েছেন গণপরিবহন ও সিএনজি চালকরা।
শুধু সিএনজি স্টেশন নয়, নগরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকাতেও দিনের সিংহভাগ সময় গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্নাবান্না নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গৃহিণীরা।
‘দু-তিন দিনেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে’
তবে এই সংকটকে ‘সাময়িক’ বলে আশ্বাস দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, টার্মিনালের ত্রুটি ও লাইন মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।