মোঃ মাইন উদ্দিন :
দীর্ঘ সময় কঠিন প্রতিরোধের মুখে পড়েও শেষ পর্যন্ত নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে সুইজারল্যান্ডের লড়াকু পারফরম্যান্সে ম্যাচ জমে উঠলেও অতিরিক্ত সময়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির দল। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলেও সুইজারল্যান্ড ছিল বেশ সংগঠিত। প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ থেকেই এগিয়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত কর্নার থেকে হেডে গোল করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। চলতি আসরে এটি ছিল লিভারপুল মিডফিল্ডারের প্রথম গোল।
এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে আরেকটি অনন্য রেকর্ড গড়েন মেসি। ছয়টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে এটি তার দশম অ্যাসিস্ট, আর অবিশ্বাস্যভাবে সেই সহায়তায় গোল করেছেন ১০ জন ভিন্ন ফুটবলার।
গোল হজমের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে সুইজারল্যান্ড। প্রথমার্ধের শেষ দিকে বাগাইল এমবোলো ও দান এনদোয়ের সমন্বয়ে কয়েকটি আক্রমণ আর্জেন্টিনার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করলেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন।
দ্বিতীয়ার্ধে সুইসরা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
মাঝমাঠের দখল নিয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা। ৬৮ মিনিটে রিকার্দো রদ্রিগেসের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ার পর দান এনদোয়ে এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে পরাস্ত করে সমতায় ফেরান দলকে।
সমতা ফেরার পর ম্যাচে নাটকীয় মোড় আসে। ৭২ মিনিটে ডাইভ দেওয়ার অভিযোগে ভিএআরের সহায়তায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাগাইল এমবোলো। ১০ জনের দলে পরিণত হলেও সুইজারল্যান্ড অসাধারণ লড়াই চালিয়ে যায় এবং নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল হতে দেয়নি।
যোগ করা সময়েও দুই দলের কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও গোলরক্ষকদের দৃঢ়তায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে থিয়াগো আলমাদাকে নামানোর পর আর্জেন্টিনার আক্রমণে নতুন গতি আসে। একাধিক আক্রমণের পর অবশেষে দ্বিতীয় অতিরিক্তার্ধে হুলিয়ান আলভারেস দুর্দান্ত নৈপুণ্যে গোল করে দলকে আবারও এগিয়ে দেন। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার প্রথম গোল।
গোল হজমের পর সামনে উঠে আসে সুইজারল্যান্ড। সেই সুযোগে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে লাউতারো মার্তিনেস তৃতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
পুরো ম্যাচে সুইজারল্যান্ড সাহসী ফুটবল খেললেও একজন কমে যাওয়ার ধাক্কা শেষ পর্যন্ত সামাল দিতে পারেনি। অন্যদিকে কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা করে নিল আর্জেন্টিনা। এখন শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে তাদের সামনে সেমিফাইনালের নতুন চ্যালেঞ্জ।