বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ছয় বছরে আটজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা এবং আর অন্তত ১৬টি আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা নথিভুক্ত হওয়ায় ক্যাম্পাসে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন এগুলোর পেছনে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা, পারিবারিক বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, প্রেমবিরহ এবং ভবিষ্যৎ অশান্তি প্রধান কারণ হিসেবে পরিলক্ষিত হয়েছে। তবু শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য স্থায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা পূর্ণাঙ্গ কাউন্সেলিং ব্যবস্থার অভাবেই অনেকেই সঠিক সহায়তা পাচ্ছেন না।
২০২৪ সালে কাউন্সেলিং অ্যান্ড গাইডেন্স সেন্টার চালু করা হয়েছে, কিন্তু সেখানে এখনও স্থায়ী জনবল নিযুক্ত হয়নি বলে শিক্ষার্থীরা জানায়। ফলে মানসিক সমস্যায় পড়লে কোথায় বা কার কাছে সাহায্য নেওয়া যাবে তা অনেকে জানেন না এবং সামাজিক কলঙ্ক কিংবা পরিবারগত চাপের কারণে বেদনাটি গোপন রাখেন। সাম্প্রতিক কালে গণিত বিভাগের ২০১৯-২০ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী চার দিন নিখোঁজ থাকার পর বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হন; পরিবারের দাবি তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এছাড়া ৮ জানুয়ারি ২০২৪-এ বাংলা বিভাগের শুভ বৈরাগীর আত্মহত্যা, একই বছরের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অপর্ণা দাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বৃষ্টি সরকার, স্নাতকোত্তরের দেবশ্রী রায় ও গণযোগাযোগ বিভাগের শেফা নূরের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শাহরিন নিগার বৃষ্টি ছাত্রীনিবাসে এবং ৯ আগস্ট গণিত বিভাগের সুমাইয়া দাস নিজ বাড়িতে মারা যান।
শিক্ষার্থীরা নিয়মিত প্রশিক্ষণভিত্তিক সচেতনতা কর্মশালা, গোপনীয় কাউন্সেলিং, জরুরি মানসিক সহায়তা (ক্রাইসিস রেসপন্স) এবং বিভাগভিত্তিক পরামর্শ কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশীদ জানিয়েছেন ইউজিসিতে স্থায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে; অনুমোদন পেলে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তিনি এবং শিক্ষকরা বলছেন শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়—পরিবার ও সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও জরুরী।