রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরের হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার করা সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই আনুমানিক দুপুর ১টার সময়ে তাকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এই বিষয়টি নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই, বুধবার ২৯ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলশানের নিজের বাড়ি থেকে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটক করে।
এই অভিযোগটি ভিত্তি করে বলা হয়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঘটানো সহিংসতা ও তাণ্ডবের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। মামলায় ৩১ জন পলাতক হিসেবে গ্রেফতারি পরোয়ানার তালিকায় ছিলেন এবং সেই তালিকায় লতিফ সিদ্দিকীও ছিলেন। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ আগস্ট দিন ঠিক করেছে এবং সেই দিন কারাগারে থাকা দশজন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ জানানো হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন বিচারকের বেঞ্চ—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর—গত ২৭ জুলাই এই আদেশ দেন। চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে তাদের তদন্তে মোট ৬১ জন হতাহতের তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে এবং তদন্তে পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র, সরাসরি অংশগ্রহণসহ কিছু ক্ষেত্রে এক্সট্রা-জুডিসিয়াল স্বীকারোক্তিও পাওয়া গেছে। অভিযোগে নাম রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মাহবুবউল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও আরও বহু জনসহ পুলিশ ও র্যাব ও সেনা उच्चপদস্থদের নামও রয়েছে। বর্তমানে কারাগারে থাকা দশজন অভিযুক্তের মধ্যে আছেন ড. আব্দুর রাজ্জাক, ডা. দীপু মনি, হাসানুল হক ইনু, শামসুল হক টুকু, শাহরিয়ার কবির, জিয়াউল আহসান, এ কে এম শহীদুল হক, আব্দুল জলিল মণ্ডল, মোজাম্মেল হক বাবু এবং ফারজানা রুপা।