চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান থেকে মামলার এজাহারভুক্ত মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ধামা নেটওয়ার্কের সদস্য, অস্ত্রের মজুদ ও সহযোগীদের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য তথ্য দিয়েছেন, যার ওপর ভিত্তি করে ফটিকছড়িতে অভিযান করে একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি দেশীয় এলজি ও আরও কিছু দেশীয় সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বলেন, ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় ঘটে যাওয়া মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনরা চিহ্নিত হয়। এরপর ২২ জুলাই ধামা ইলিয়াছকে গ্রেফতার করে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পুলিশ জানায়, ধামা কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ট সহযোগী এবং হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ মোট ২১টি মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, ধামার দেওয়া সূত্র ধরে ২৯ জুলাই যশোরের ঝুমঝুমপুরে বিশেষ অভিযানে প্রধান আসামি মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে আটক করা হয় এবং পরে আরেকজনকে পৃথক অভিযানে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন (২৫), মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ (৪৯), শামীম (২৮), আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫) ও সাফায়েত হোসেন (২৪)। পুলিশ জানান, ভোর সাড়ে তিনটার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে তল্লাশি করে অস্ত্রসহ উদ্ধারকৃত বস্তু জব্দ করা হয় এবং অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন। যেসব সদস্য গ্রেফতার হয়নি তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান, অস্ত্রের উৎস ও অর্থায়ন খতিয়ে দেখাসহ নেটওয়ার্ক উন্মোচনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তদন্তকারীরা।