শিক্ষক-নির্যাতন ও মহিলা হলে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকেছে বলে জানানো হয়েছে। এ খবরটি বুধবার, ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনাটি গত ২২ জুলাই রাতে ঘটে; বিজয় ২৪ হলের নারী শৌচাগারে ফোন রেখে গোপনভাবে ভিডিও ধারণের সময় ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসানকে শিক্ষার্থীরা ধরায়। পরের সকাল থেকেই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রবেশদ্বার তালাবন্ধ করে এবং প্রশাসনিক ও একাডেমিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখে। শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো হলো অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, হল প্রভোস্ট বোর্ডের দায়িত্বহীনতার জন্য জবাবদিহি শনাক্ত করা, যৌন হয়রানির অভিযোগে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রুবেল আনছার ও অ্যাগ্রোটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল الاسلامকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা এবং সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা।
প্রশাসন কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়—অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে হরিণটানা থানায় মামলা, ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন, সংশ্লিষ্ট ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল এবং হলে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করা। অপরাজিতা ও বিজয় ২৪ হলে পুরুষ কর্মী নিতে বাধা ও ক্যান্টিন পরিচালনায় কঠোর নীতি গঠনের কথাও বলা হয়েছে। রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন এলে পুনঃতদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং রেজাউল ইসলামের বিষয়ে চলতি দুই তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এসব পদক্ষেপে শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট নয়; কিছু তালা খোলা হলেও ক্লাস ও পরীক্ষাবর্জন কর্মসূচি চলমান আছে এবং তারা দাবিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছে এক সম্পাদকীয় বিবৃতিতে উল্লেখ করা ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভাকে পরিস্থিতি সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে।