দেশের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ বাড়লেও সামগ্রিক ঋণের স্থিতি কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে এ খাতে ঋণের স্থিতি ৫.১৫ শতাংশ কমে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। তবে একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ২৬.০৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত ডিসেম্বর শেষে ছিল ২৪.০৩ শতাংশ। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক চাহিদার দুর্বলতার কারণে অনেক উদ্যোক্তা সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না।
সামগ্রিক স্থিতিতে ভাটা পড়লেও নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৫২ হাজার ১০৮ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৯৮ শতাংশ বেশি। ঋণের প্রবাহ ঠিক থাকলেও খেলাপি ঋণের উল্লম্ফন এবং ঋণ আদায়ের ধীরগতি ব্যাংকিং খাতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সিএমএসএমই খাতে অর্থায়ন এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, শুধু ঋণ প্রবাহ সংকুচিত না করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা প্রয়োজন। খেলাপি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মনিটরিং এবং সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা ও ক্লাস্টারভিত্তিক অর্থায়নে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে, যা এই খাতের তারল্য সংকট সমাধানে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।