শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন
Title :
পিরোজপুরে রাতের আঁধারে তালা ভেঙে বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের নতুন ডিজি আব্দুর রহমান ‘কৃষকের বন্ধু’ খেঁকশিয়াল কেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে র‍্যাবের মতো সংগঠন প্রয়োজন, এসআরবি নিয়ে সংসদে লুৎফুজ্জামান বাবর শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে জবিতে সাংবাদিকতা কর্মশালা র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি ছিল, একই ধরনের বাহিনী কেন? প্রশ্ন শফিকুর রহমানের ওয়ালটন পণ্যের মান ও স্থায়িত্ব উন্নত, দামেও সাশ্রয়ী: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ২০১৬-১৭ মৌসুমের চেলসির শিরোপা টটেনহামকে দেওয়া উচিৎ সংসদীয় কমিটি গঠনে ‘স্পিরিট অব পার্লামেন্ট’ বিবেচনার আহ্বান নাহিদের হেবার সংশোধন আইন দ্রুত বাতিল কর‌তে হ‌বে: মুফতি ফয়জুল করিম

সারের কোনো সংকট নেই, ঘাটতি অভিযোগ সঠিক নয়: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৮ Time View
10

দেশে তীব্র সার সংকট বা কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের একটি অধিবেশন চলাকালে জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এই দাবি করেন। তিনি জানান, সরকার কৃষকদের মাঝে নিরবচ্ছিন্নভাবে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদেশ থেকে আমদানি ও নিরাপদ মজুত বজায় রাখার প্রক্রিয়া সফলভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে সার ও সম্ভাব্য খাদ্য ঘাটতি নিয়ে যেসব উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল, প্রতিমন্ত্রী সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেন। সংসদীয় কার্যক্রমে উত্থাপিত এই বিষয়টির ওপর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি সরকারের বর্তমান কার্যক্রম তুলে ধরেন।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে সার উৎপাদন ও বণ্টন পরিচালিত হয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত দুই লাখ আট হাজার টনের বেশি ইউরিয়া সার দেশে উৎপাদিত হয়েছে এবং প্রায় এক লাখ ১৭ হাজার টন সার আমদানি করা হয়েছে। এর বাইরেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টনের বেশি ইউরিয়া সার ইতিমধ্যে কৃষকদের মধ্যে সফলভাবে বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের গুদামগুলোতে চার লাখ নয় হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সম্পূর্ণ নিরাপদে মজুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আসন্ন ফসল উৎপাদনের প্রধান মৌসুমগুলোতে কৃষকদের যেন কোনো ধরনের সারের ঘাটতিতে পড়তে না হয়, সে জন্য নিয়মিত উৎপাদন ও আমদানি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সার কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান যে বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন মোট সাতটি কারখানার মধ্যে বর্তমানে ঘোড়াশাল পলাশ ও সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানির উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। এর পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু হওয়ায় চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড চালুর প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে রয়েছে এবং খুব দ্রুত সেখানে পূর্ণোদ্যমে উৎপাদন শুরু হবে। তবে কিছু কারখানায় গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহের সাময়িক জটিলতা থাকলেও সামনের মাসগুলোতে বড় পরিসরে ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিগত অর্থবছরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি দেখান যে অতীতেও দেশীয় উৎপাদন এবং আমদানির মাধ্যমে সারের পর্যাপ্ত চাহিদা মেটানো হয়েছে, যা প্রমাণ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভীতি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

মাঠপর্যায়ে কিছু ডিলারের অব্যবস্থাপনা এবং কৃত্রিম সংকটের অভিযোগের বিষয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন যে বিগত আমলে নিয়োগ পাওয়া কিছু বিতর্কিত ডিলার এখনো বহাল থাকায় মাঝেমধ্যে প্রশাসনিক কিছু জটিলতা তৈরি হয়। এই সমস্যা চিরতরে দূর করতে কৃষি মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিদ্যমান ডিলারশিপ বাতিলের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য অফিশিয়াল সার্কুলার জারি করেছে। অবৈধ উপায়ে সার মজুত করা, পাচার কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি রোধে মাঠপ্রশাসনে সরকারের কঠোর মনিটরিং ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সার পাচারের ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সারের দাম অনেক কম রয়েছে, যা সরকারের ইতিবাচক ব্যবস্থাপনাকেই নির্দেশ করে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com