‘শেখ হাসিনার জেল হোক, ফাঁসি হোক– সেটা আমি সমর্থন করি না।’ এমন মন্তব্য করেছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। বৃহস্পতিবার কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আমিনুল ইসলাম তারেকের কবর জিয়ারতে এসে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা-বঙ্গবন্ধু এক না, শেখ হাসিনা-মুক্তিযুদ্ধ এক না, শেখ হাসিনা-বাংলাদেশ এক না। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সেটা থাকবে, থাকবে, থাকবে। আর জামায়াতে ইসলামী যে কী দল! আমি জানি না, তারা কেন এত দুর্ভাগা। ব্রিটিশের বিরদ্ধে পাকিস্তান আন্দোলন যখন হয়েছে, শেষ দিন পর্যন্ত জামায়াত ব্রিটিশের পক্ষে কাজ করেছে। পাকিস্তান যখন আমাদের ওপর অত্যাচার করে, মা-বোনদের সম্মান নষ্ট করে, মানুষ হত্যা করে, সেই সময় তারা বাংলাদেশের পক্ষে না দাঁড়িয়ে, স্বাধীনতার পক্ষে না দাঁড়িয়ে, তারা কিন্তু পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এই জন্যই তাদের এত অধঃপতন। জোর যতই দেখাক, বাংলাদেশের প্রাণ তারা কখনই জয় করতে পারবে না।’
তারেক রহমান সম্পর্কে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর খারাপ কাজগুলো করা উচিত নয়। তবে এখন পর্যন্ত তাঁকে অনুসরণ করা ছাড়া, সব মিলিয়ে সরাসরি বিরোধিতা করা আমার কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হয় না। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু ক্রাইসিসে পড়েছিলেন। আরব-ইজরায়েল যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে গেল, চাল-ডালের দাম বেড়ে গেল। তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় ক্রাইসিস তো আছেই, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস তার চেয়ে অনেক বেশি। তার পরও অধ্যাপক ইউনূছের চেয়ে দেশ হাজার গুণ ভালো চালাচ্ছেন।’
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার সময় কিশোরগঞ্জের জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় ওঠেন। জোহরের নামাজের পর শোলাকিয়া এলাকায় বাগে জান্নাত গোরস্থানে আমিনুল ইসলাম তারেকের কবর জিয়ারত করেন। সেখান থেকে শহরের খরমপট্টি এলাকায় তারেকের বাসায় গিয়ে তাঁর স্ত্রী আরিফা ইসলাম লাকীসহ স্বজনদের শান্তনা দেন।