লোহিত সাগরে জাহাজ থেকে টোল আদায়ের দাবিটি অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে জলপথটি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল করতে পারবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলে তদারককারী হুথি নিয়ন্ত্রিত সংস্থা হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশন কোঅর্ডিনেশন সেন্টারের (এইচওসিসি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের ট্রানজিট সেবাটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক এবং বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। জলপথটি দিয়ে যাতায়াতে কেউ টাকা দাবি করলে, তারা ইয়েমেন সরকার বা এইচওসিসির প্রতিনিধিত্ব করে না বলে সতর্ক করা হয় বিবৃতিতে। এসময় অননুমোদিত কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে টাকা বা কোনো তথ্য শেয়ার না করতে শিপিং কোম্পানিগুলোকে অনুরোধও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে ২৯ জুলাই বার্তা সংস্থা রয়টার্স আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে বলা হয়, বাব-এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের কথা ভাবছে ইরান-পন্থি হুথিরা। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগেই হুথিরা সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ ঘোষণা করেছিল।
এসময় রয়টার্সের সূত্রগুলো জানায়, জুলাই মাসের শুরুতে তেহরান সফরে হুথি প্রতিনিধিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করে। টোল আদায়ের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনেও ইরানের উপদেষ্টারা হুথিদের সহায়তা করছেন বলে খবরে উঠে আসে।
এছাড়া, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব তাদের তেল ও পণ্য রপ্তানির বিকল্প রুট হিসেবে বাব-এল-মান্দেবের ব্যবহার করে আসছে। ফলে প্রণালিটিতে কোনো শুল্ক আরোপ হলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা রিয়াদই খাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। তাই হুথিদের এমন হুমকির মুখে লোহিত সাগর, বাব-এল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ১৪টি দেশের সমন্বয়ে একটি নতুন নৌ-জোট গঠন করেছে সৌদি আরব।
প্রণালিটি এশিয়া, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে তেল ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ। এই প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল আরোপের পদক্ষেপটি মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে কর আদায়ের ইরানি প্রচেষ্টারই প্রতিফলন বলে ধারণা করা হয়েছিল।