ভারতের অরুণাচল প্রদেশে চীনা বাহিনীর অনুপ্রবেশ এবং ভারতীয় ভূখণ্ড দখলের বিষয়ে মুখ খুলেছেন দেশটির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আর কে সিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে জানতে চেয়েছেন, সীমান্ত এলাকার তাকসিংয়ের শেরা পয়েন্ট ৫ ছাড়াও আরও কতগুলো টহল পয়েন্টে ভারতীয় সেনাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীন। তিনি স্পষ্ট করে দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি ছাড়া কৌশলগত কোনো টহল পয়েন্ট ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়, তাই এ বিষয়ে সরকারের স্বচ্ছ জবাব পাওয়া প্রয়োজন।
আর কে সিং তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে ব্যাখ্যা করেন যে, সীমান্ত এলাকায় টহল পয়েন্টগুলো ছেড়ে দেওয়া মানে কার্যত ওই এলাকাগুলোর ওপর নিজেদের দাবি শিথিল করা। তিনি উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, ২০১৪ সালের পর ভারত সরকারের অগোচরে বা সম্মতিতে ঠিক কতগুলো পয়েন্ট হাতছাড়া হয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ হিসাব জাতির সামনে প্রকাশ করা উচিত। সেই সঙ্গে তিনি মোদী সরকারের চীন-নীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন—একদিকে চীনা বিনিয়োগ ও উৎপাদন নীতিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে ভারতের ভূখণ্ডে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে উপেক্ষা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।
সাবেক মন্ত্রীর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর বিরোধী দলগুলোও সরকারের নীরবতার সমালোচনা করেছে। কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী নেতারা দাবি করেছেন, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করা একজন অভিজ্ঞ মানুষ যখন জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে এমন গুরুতর প্রশ্ন তুলছেন, তখন সরকারের উচিত বিষয়টি নিয়ে দ্রুত মুখ খোলা। অরুণাচলের মানচিত্র পরিবর্তন ও চীনের দখলদারিত্বের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন চুপ থাকছেন, তা নিয়েও দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।