মোঃ ওমর ফারুক, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি।
দীর্ঘদিনের তীব্র পানির সংকট থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বান্দরবান সদর উপজেলার দুটি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। কুহালং ইউনিয়নের চেমিডুলু পাড়া এবং রাজবিলা ইউনিয়নের ইসলামপুরে নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য গভীর নলকূপ ও পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের কাজ চলছে। এই প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে স্থানীয় বাসিন্দারা খুব সহজেই বাড়ির পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ সুপেয় পানি পেয়ে যাবেন।
পাহাড়ি দুর্গম জনপদ হওয়ায় এই অঞ্চলে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা বরাবরই একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। পাহাড়ের ঢালজুড়ে বসবাস হওয়ায় এবং শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি-ছড়ার পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় স্থানীয়দের দূর-দূরত্ব থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। বিশেষ করে খরা মৌসুমে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। ভোরে কলসি বা বালতি হাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েই তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের পানি জোগাড় করতে হয়।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় এই জনদুর্ভোগ নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ২০০ ফুট গভীরতার দুটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তোলিত পানি সংরক্ষণের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি বিশাল পানির হাউজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে শিবলী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, রাজাবিলার ইসলামপুর ও কুহালংয়ের চেমিডুলু পাড়ায় প্রকল্পের কাজ বেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইসলামপুরে ইতিমধ্যে ডিপ টিউবওয়েল বসানোর কাজ শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে পানির হাউজ নির্মাণের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে নলকূপের পানি হাউজে সংরক্ষণ করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে।
ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা বাদশা মিয়া জানান, গ্রীষ্মকাল শুরু হলেই সুপেয় পানির জন্য তাদের চরম কষ্ট করতে হয় এবং অনেক দূর থেকে পানি আনতে হয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ সফল হলে তাদের দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট চিরতরে দূর হবে। চেমিডুলু পাড়ার বাসিন্দা উচপ্রু জানান, প্রায় তিনশ পরিবারের এই জনপদে শুষ্ক মৌসুমে কুয়ার পানির জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। নতুন এই প্রকল্পের কারণে এলাকাবাসীর মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইদুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুতই বাকি কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হলে স্থানীয়দের সুপেয় পানির সংকট মোচনের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।