পার্বত্য চট্টগ্রামের নৈসর্গিক পরিবেশ এখন এক ভয়াবহ চাঁদাবাজির কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জুড়ে সক্রিয় একাধিক আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত। সাধারণ কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এমনকি বাড়ির গৃহস্থালির মুরগি বিক্রির ক্ষেত্রেও চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে স্থানীয়দের। গোয়েন্দা তথ্য ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, এই তিন জেলায় বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। এই বিপুল অর্থ মূলত তাদের সাংগঠনিক ব্যয়, অস্ত্র সংগ্রহ এবং পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
চাঁদাবাজির এই নেটওয়ার্ক থেকে রেহাই পাচ্ছে না কোনো খাতই। পরিবহন ব্যবসা, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ থেকে শুরু করে পর্যটন শিল্প—সবক্ষেত্রেই নিয়মিত চাঁদা দিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট ‘টোকেন’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা ছাড়া সড়কপথে পণ্য পরিবহন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চাহিদামতো চাঁদা না দিলে অপহরণ, প্রাণনাশের হুমকি কিংবা প্রকল্প কাজ বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই প্রাণভয়ে আইনের আশ্রয় নিতে সাহস পান না, যার ফলে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঠিক চিত্র প্রশাসনের কাছে পুরোপুরি পৌঁছায় না।
এই অনৈতিক চাঁদাবাজির সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের দাম যেমন বাড়ছে, তেমনি নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। এদিকে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় যৌথ অভিযানও পরিচালনা করা হয়। তবে পাহাড়ি এলাকার দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা ভীতি কাটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।